Skip to content

শূণ্যতার পরিসমাপ্তি

অক্টোবর 2, 2014

লিখেছেন: সুপ্ত তাহারাত
shunnota

আবারো রাত্রিশেষের নরম ভোর
কড়া নাড়ছে দরজার,
তার আগমনধ্বনি মিশে গেছে
অপেক্ষার ক্রান্তিকালে দাঁড়ানো আমাদের প্রসন্ন তাকবীরে।

জং ধরা হৃদয়ের টুকরাগুলো
ঝলসে উঠুক আরেকবার,
আর চারপাশে মুক্তোর দানা হয়ে ছড়িয়ে থাকা সময়
অপেক্ষায়…
কুড়িয়ে নেয়ার।
তারপর হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিংড়ে দেয়া
অনন্ত প্রেমময়ের প্রতি।
বুঝিবা মহাসিন্ধুর মাঝে একফোঁটা জল
সিক্ত হয়ে উঠা প্রতিটি রগরেশার।

তারপর আবারো অপেক্ষা
শাণিত হয়ে উঠা অব্যর্থ হৃদয়ের,
আরেকটি কালরাত্রির পরাজয়ের সাক্ষ্য হবে বলে।
জুলুমের অন্ধকার ফেটে প্রদীপ্ত হোক সোনালী ভোর,
আর তার আগমনধ্বনি মিশে যাক,
অপেক্ষার ক্রান্তিকালে দাঁড়ানো আমাদের প্রসন্ন তাকবীরে।।

* * * *
# লেখিকার ব্লগ: শুভ্রতার স্পর্শ

রামাদান মাসে লক্ষণীয় কিছু বিষয়

জুন 30, 2014

লেখাটি islamQA.com ওয়েবসাইট থেকে সংকলিত
ramadan kareem

রামাদান মাসে লক্ষণীয় কিছু বিষয় :

  • আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হল সে কাজ যা নিয়মিত করা হয় – তা অল্প হলেও। রমজান মাসের শুরুতে মানুষ আনুগত্য ও ইবাদতের খুব যোশ নিয়ে সক্রিয় থাকে। কিছুদিন পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকুন এবং এই মহান মাসে পালনকৃত সমস্ত কাজ নিয়মিতভাবে ধরে রাখতে সচেষ্ট হউন।
  • একজন মুসলিমের উচিত এই মুবারক মাসে তার সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সচেষ্ট হওয়া। যাতে করে কল্যাণ ও ভাল কাজে এগিয়ে যাওয়ার বড় বড় সুযোগ তার হাতছাড়া হয়ে না যায়। যেমন– রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে দিতে সচেষ্ট হওয়া। একইভাবে দৈনিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এমন সময়ে কিনতে সচেষ্ট হওয়া যখন বাজারে ভিড় থাকে না। আরেকটি উদাহরণ হল: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দেখা সাক্ষাতের জন্য এমন রুটিন করে নেয়া যাতে ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে।
  • এই মুবারক মাসে বেশি বেশি ইবাদত করা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভকে আপনার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করুন।
  • সালাতের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মসজিদে হাযির হওয়ার ব্যাপারে মাসের শুরুতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াত খতম (সমাপ্ত) করার সিদ্ধান্ত নিন। এই মহান মাসে নিয়মিত ক্বিয়ামুল লাইল পালন করার সংকল্প করুন। স্বীয় সম্পদ থেকে সাধ্যানুপাতে দান করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হউন।

আরও পড়ুন…

রামাদান আসছে তাই আমাদের কী করা উচিত?

জুন 27, 2014

লিখেছেন: আসিফ সিবগাত ভূঞা
ramadanpic

রামাদান সামনে আসছে। আমাদের কী করা উচিৎ?

খুব বেশি প্ল্যানিং করার দরকার নেই। আমরা কুরআন হাদীস থেকে যা পাই তাতে খুব বেশি পরিমাণে টেকনিকালিটি দেখতে পাই না। খুব সিম্পল ৫টি স্টেপ ফলো করে আমরা সামনের রামাদানটিকে সেরা রামাদান করে তুলতে পারি:

১) প্রথম স্টেপটি রামাদানের আগেই নিতে হবে। সেটি হচ্ছে রামাদানের প্রস্তুতিমূলক রামাদানের এবং রোজার উদ্দেশ্য ও করণীয় সম্বন্ধে ভালো করে জেনে নেয়া। বহু রোজাদার রামাদান নিয়ে আপাত উচ্ছাস প্রকাশ করলেও প্ল্যান করছেন কেবল সময় আসলে না খেয়ে থাকার এবং তারাবীর নামাজ পড়ার। রামাদানের যা করণীয় তাতে এর বাইরেও আরও অনেক বেশি জানার আছে। এছাড়াও রোজার সময় হৃদয়ের অবস্থান এবং উপলব্ধি কেমন হওয়া উচিৎ সেটা নিয়েও জেনে রাখা উচিৎ। রিয়াদুস-সালেহীন গ্রন্থে রোজা ও রামাদানের ওপর যে হাদীসগুলো আছে সেগুলো অধ্যয়ন করা যেতে পারে। রামাদানের মূল যে উদ্দেশ্য তাকওয়া, সেই তাকওয়া কী সেটা ভালো করে বুঝে নেয়া উচিৎ।
আরও পড়ুন…

রামাদানুল মুবারাক

জুন 26, 2014

লিখেছেন: মাহমুদ
ramadanul

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে এসেছে রামাদান মাস। সিয়াম সাধনার মাস। আল্লাহ আমাদের রামাদান দিয়েছেন, যার ফলে আমরা হয়ত পরহেজগারী অর্জন করতে পারবো। কুরআনুল কারীমে তিনি বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। ” — [সূরা বাকারাহঃ ১৮৩]

রোযায় পানাহার এবং শারীরিক চাহিদাকে সংযত করার মাধ্যমে এবং আল্লাহর নির্দেশিত উপায়ে পূরণ করার মাধ্যমে আমাদের মাঝে একটা শক্তি তৈরি হবে, একটা আধ্যাত্মিক বোধ তৈরি হবে আমাদের পরহেজগার হতে, তাকওয়া সম্পন্ন হতে সাহায্য করতে পারে।

আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমের বলেছেনঃ

“রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। …… ”
— [সূরা বাকারাহঃ ১৮৫]

পবিত্র কুরআনের কারণে আমাদের এই রামাদান বিশেষ তাৎপর্যময় হয়েছে। এই মহান গ্রন্থ কুরআন নিয়ে এই আয়াতে আছে দু’টি কথার উল্লেখঃ

১) তা আমাদের জন্য হিদায়াহ এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশনা
২) ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী
আরও পড়ুন…

রামাদানের প্রস্তুতির জন্য ৮ টি সহজ টিপ্‌স

জুন 23, 2014

অনুবাদ করেছেন: মুসাফির শহীদ
ramadan


​রামাদানে বা হজ্জের সময় ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় কেন সালাতে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয় কিংবা কেন আমাদের ঈমান দুর্বল থাকে তা ভেবে আপনি কি কখনো বিষ্মিত হয়েছেন? এর কারণ হতে পারে, সচরাচর আমরা সাধারণত একটি ফোনালাপের পরপরই তাকবীরে চলে যাই কিংবা অন্য আর সবার মতোই আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হই, যা আমাদের প্রকৃত অনুভূতি নয়। আরও পড়ুন…

ভাই আমার…

ফেব্রুয়ারি 18, 2014

লিখেছেন: জিম তানভীর
allah_is_my_everything

আমার খুব ইচ্ছা করে, তোমাকে কিছু কথা বলি। কথাগুলো মনে হয় তোমার ভাল নাও লাগতে পারে, তবু বলি। কিছু কথা আছে বলতে যেমন সাহস লাগে, শুনতে এবং মানতে তার থেকে বেশি সাহস লাগে। কথাগুলো তেতোঁ এবং অপছন্দনীয়ও হতে পারে, কিন্তু তবু বলি, একটু শোন।

ভাই, তুমি আসলে কিসের পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছ? তোমার এই ছোট্ট জীবনটাতে তোমার সবচেয়ে আরাধ্য বিষয়টা কি ? একটু ভাল থাকতে চাও, একটু আরামে থাকতে চাও, তাই তো ? ভাল খাবে, ভাল পরবে, একটা এসি গাড়ি থাকবে, মানুষ তোমার আর তোমার সম্পদে চোখ রেখে বলবে, “আরে এরা অনেক হাই ফাই” – এরকম কিছু ? হ্যা তোমার যদি বয়সটা একটু কম হয়, সেক্ষেত্রে আশা করতে পার, মেয়েরা তোমাকে cool বলবে, তোমার একটা স্মার্ট গার্লফ্রেন্ড থাকবে, তাকে নিয়ে তুমি যাবে KFC তে খেতে ! তুমি ‘ট্যুর’ দেবে বান্দরবন, কাঁপিয়ে বেড়াবে সুন্দরবন, অথবা কক্সবাজার দাপিয়ে সেন্টমার্টিন, ফ্রেন্ডসদের নিয়ে ছবি তুলে আপলোড দেবে ফেসবুকে, আর লোকে কমেন্ট দেবে, “awesome man”। তোমার ভাল সিজি-ডিগ্রী থাকবে, লোকে তোমাকে সমীহ করে দেখবে, সমাজে তোমার মানুষের কাছে “বলার মত একটা অবস্থান” থাকবে, যে “অবস্থান” বলার প্যারামিটার সম্ভবত তোমার চাকরি, তোমার ক্যারিয়ার কিংবা তোমার হিসেব ছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্স, তাই না ? হতে পারে তুমি এমন যে তুমি চাও যে তোমার থাকবে অনেক প্রভাব প্রতিপত্তি, চায়ের দোকানে চা খেয়ে বিল না দিলে তোমাকে কেউ কিচ্ছু বলবে না, চোখ তুলে কেউ তোমার দিকে নজর দেবে না। তোমার নাম বেঁচে, ছলনা করে, কিংবা তোমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের জোরে তুমি অনেক কাজ করিয়ে নেয়ার এবং দেয়ার ক্ষমতা রাখবে, যেন তুমি কারো মুখাপেক্ষী নও!
আরও পড়ুন…

কী নিয়ে এসেছে ইসলাম?

জানুয়ারি 30, 2014

aaa

“কাদেসিয়া যুদ্ধের পূর্বে হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাবী বিন আমেরকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পারস্য সম্রাটের সেনাপতি রুস্তমের দরবারে দূত হিসেবে প্রেরণ করেন।

রাবী বিন আমের (রা) শিবিরে প্রবেশ করে দেখতে পান, দরবারকক্ষ মূল্যবান কার্পেটে সাজানো রয়েছে। সোনার তাজ ও মণি-মুক্তা খচিত পোশাক পরিহিত রুস্তম একটি উঁচু মঞ্চের উপরে স্বর্ণ নির্মিত সিংহাসনে বসেছিল।

রাবী (রা) ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় হাতে একটি ছোট ঢাল ও বর্শা নিয়ে সুক্ষ্ম ঘোড়ায় চড়ে দরবারে প্রবেশ করেন। একটি মূল্যবান কোল বালিশের সাথে ঘোড়াটিকে বেঁধে তিনি রুস্তুমের নিকটে যেতে উদ্যত হন। তাঁর শরীরে তখনও যুদ্ধের পোশাক ছিল। মস্তকে লৌহ শিরস্ত্রাণ ও বর্ম পরিহিত অবস্থায় অগ্রসর হলে দরবারীগণ তাঁকে যুদ্ধের পোশাক খুলে ফেলতে বললো।

রাবী বিন আমের (রা) বললেন, “আমি নিজে সাধ করে এখানে আসিনি। তোমরা আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছ। যদি আমার এ পোশাক তোমাদের অপসন্দ হয় তাহলে ফিরে যাচ্ছি।”

রুস্তুম বললেন, “তাকে আসতে দাও।”

তিনি তাঁর হাতের বর্শায় ভর করে এগিয়ে গেলেন। বর্শার খোঁচায় কার্পেট খানা স্থানে স্থানে ক্ষত বিক্ষত হলো।

রুস্তুম প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি জন্যে এসেছ?”

তিনি জবাবে বললেন,

– মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে উদ্ধার করে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর বন্দেগীতে নিয়োগ করার জন্য আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন।

– যারা দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে নিজেদের মুক্ত করে আখেরাতের সীমাহীন কল্যাণ পেতে ইচ্ছুক, তাদের সে প্রশস্ত ময়দানে পৌছানো এবং

– মানব রচিত ধর্মের অত্যাচার থেকে রেহাই দিয়ে মানুষকে ইসলাম প্রদত্ত ন্যায়-নীতির অধীনে আনয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।”

[আল বিদায়া ওয়া আন নিহায়া]


* * * * * *
[সূত্রঃ ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা : সাইয়্যেদ কুতুব ; পৃ ১৯৫]

%d bloggers like this: