Skip to content

রামাদান আসছে তাই আমাদের কী করা উচিত?

জুন 27, 2014

লিখেছেন: আসিফ সিবগাত ভূঞা
ramadanpic

রামাদান সামনে আসছে। আমাদের কী করা উচিৎ?

খুব বেশি প্ল্যানিং করার দরকার নেই। আমরা কুরআন হাদীস থেকে যা পাই তাতে খুব বেশি পরিমাণে টেকনিকালিটি দেখতে পাই না। খুব সিম্পল ৫টি স্টেপ ফলো করে আমরা সামনের রামাদানটিকে সেরা রামাদান করে তুলতে পারি:

১) প্রথম স্টেপটি রামাদানের আগেই নিতে হবে। সেটি হচ্ছে রামাদানের প্রস্তুতিমূলক রামাদানের এবং রোজার উদ্দেশ্য ও করণীয় সম্বন্ধে ভালো করে জেনে নেয়া। বহু রোজাদার রামাদান নিয়ে আপাত উচ্ছাস প্রকাশ করলেও প্ল্যান করছেন কেবল সময় আসলে না খেয়ে থাকার এবং তারাবীর নামাজ পড়ার। রামাদানের যা করণীয় তাতে এর বাইরেও আরও অনেক বেশি জানার আছে। এছাড়াও রোজার সময় হৃদয়ের অবস্থান এবং উপলব্ধি কেমন হওয়া উচিৎ সেটা নিয়েও জেনে রাখা উচিৎ। রিয়াদুস-সালেহীন গ্রন্থে রোজা ও রামাদানের ওপর যে হাদীসগুলো আছে সেগুলো অধ্যয়ন করা যেতে পারে। রামাদানের মূল যে উদ্দেশ্য তাকওয়া, সেই তাকওয়া কী সেটা ভালো করে বুঝে নেয়া উচিৎ।

২) রামাদান চলে আসলে প্রথম স্টেপে যে শিক্ষা নেয়া হয়েছে তাকে বাস্তবায়ন করে যথার্থ ভাবে রোজা এবং নামাজ পড়তে হবে।

ইমাম আল-গায্‌যালী রোজাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন–

১. সাধারণ রোজা: এই রোজা সবাই রাখবে। সাধারণ রোজা হচ্ছে স্রেফ রোজার সময়ে পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। এটি ন্যূনতম রোজা।
২. বিশেষ রোজা: কম মানুষ এই রোজা রাখতে পারে। পানাহার ও স্ত্রী সহবাসের পাশাপাশি সকল হারাম এবং পারতপক্ষে মাকরূহ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। হারাম কাজ বলতে কেবল মদ, গাঁজা বা সিগারেটের কথা বলা হচ্ছে না, বরং অশ্লীল কথাবার্তা, গালিগালাজ, গীবত ও গালগল্প ছড়ানোর কথাও বোঝানো হচ্ছে।
৩. অত্যন্ত বিশেষ রোজা: যা আল্লাহ্‌র খুব অল্প বান্দাই রাখতে পারেন। পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও হারাম কাজ তো বটেই, এর সাথে অন্তরকে এমন সকল চিন্তা থেকে মুক্ত রাখা যা মানুষকে আল্লাহ্‌র নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

৩) রামাদান মাসে কুরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা। আল্লাহ্‌র কিতাবকে রামাদান মাসে বিশেষ জায়গা দিন। অন্যান্য রামাদানের জন্য টেইলর মেইড কুরআনের আয়াত সম্বলিত ছোট ছোট পুস্তিকা বা বুকলেট পড়বেন না। বি সিরিয়াস। পুরো মুসহাফ নিয়ে বসুন। অল্প অল্প পড়ুন এবং প্রচুর চিন্তা করুন, অনুধাবন করুন। রামাদান মাস হচ্ছে কুরআন অবতীর্ণ হবার মাস, এ মাসেই জিবরীল (আ:) এসে রাসূলুল্লাহর (সা:) সাথে কুরআন রিভাইস করতেন দুবার করে। সবসময়ই কুরআন পড়া উচিৎ, কিন্তু রামাদান একটি বিশেষ উপলক্ষ। তারাবীতে কুরআন খতম শোনার চেয়েও বেশি উপকারী হবে কুরআন বুঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে। মধু পান করার জিনিস, ওটা দিয়ে নিয়মিত কেবল গোসল করার কোনও অর্থ হয় না।

৪) এই মাসটিতে আমরা সবচেয়ে বেশি দান করার কাজে মনোযোগ দিতে পারি। আল্লাহ্‌র নবী (সা:) এই মাসটিতে সবচেয়ে বেশী দানশীল হতেন। এর অর্থ এই নয় যে অন্য সময় আমরা দানশীল হবো না। কিন্তু এ মাসটি উদারতা দেখানোর সবচেয়ে উপযুক্ত মাস। ঈদের শপিঙে এক গাদা অর্থ খরচ না করে এখনই আমরা একটি ভালো অঙ্কের টাকা স্রেফ দান করার জন্য জমিয়ে রাখতে পারি। ইফতারের সময় ইজিলি আমরা একটু কম দামের ইফতার কিনে বাকি টাকাটা দান করে দিতে পারি। মনে রাখা উচিৎ, ভালো কাজ করতে কেবল হৃদয়ের সংযোগ করলেই চলবে না, একটু মাথাও খাটানো জরুরি।

৫) ‘ঈবাদাতের কাজগুলোকে আমরা দুটো ভাগে ভাগ করতে পারি:

১) যা কেবল একান্তে আল্লাহ্‌র জন্য করা হয়, এবং
২) যা আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে কিন্তু মানুষের উপকারে করা হয়।

রামাদান মাস হচ্ছে বিশেষ ভাবে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাস। এসময় প্রথম প্রকারের ভালো কাজটি যথাসম্ভব বাড়িয়ে দিতে হবে এবং এটাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনহিতকর কার্যকলাপ করার জন্য বাকি ১১ মাস পড়ে রয়েছে। রামাদান হচ্ছে যত বেশি পারা যায় সময় কেবল আল্লাহ্‌র জন্য বরাদ্দ করার মাস। রামাদান ই’তিকাফের মাস, আল্লাহ্‌র সাথে খাওলাহ বা একান্তে সময় কাটানোর মাস। যত বেশি সম্ভব নির্জনে থাকার মাস, হৈ হুল্লোড় বা বন্ধু বান্ধবের সান্নিধ্যে কাটানোর মাস নয়। সেহরি খাওয়ার জন্য বন্ধু বান্ধবের সাথে হোটেলে গিয়ে, ইফতার পার্টি করে এই পূণ্যবান সময়টিকে নষ্ট করার চেয়ে বিরাট বোকামি আর কিছু হয়না।

ইসলাম আমাদের আনন্দ উল্লাসে বাধা দেয় না। কিন্তু কিছু সময় এমন রয়েছে যখন আমাদের বুঝতে হবে আমাদের জীবনের আসল প্রায়োরিটি কী। রামাদান ব্যক্তিগত ‘ঈবাদাতের সময় বলেই এর শেষে একটি উৎসবের দিন দেয়া হয়েছে, ‘ঈদ। আমরা যেন সেই মদ্যপ ব্যক্তির মতো অভাগা যে পানশালায় যায়ও মদ খেতে খেতে। আল্লাহ্‌ আমাদের সঠিক সময় সঠিক কাজ করার তাওফীক দিন।

[লেখাটি লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে, ইবানার ওয়েবসাইট লিঙ্ক]

No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: