Skip to content

দাওয়াহ প্রদানের আন্তরিকতা কেমন হওয়া উচিৎ?

জানুয়ারি 16, 2014

লিখেছেন: ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি
ramadan1

আমরা তো অনেক সময় আচার-আচরণে ‘আন্তরিক’ ও ‘কর্কশের’ তফাতও ভুলে যাই। প্রকৃত দা’ঈকে মধুর ভাষণ ও সদয় অভিব্যক্তি দিয়ে দাওয়াতী কাজ চালাতে হবে। এমন প্রমাণ আছে যে, কর্কশ আচরণের ফলে আসল বিষয় বিকৃত বা বিলীন হয়ে গেছে। এগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। এজন্যেই বলা হয়েছে, যে ভালো পথের আদেশ করে সে যেন ঠিক পথে করে।

ইমাম গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ) তার ‘আমরু বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ বইতে লিখেছেন, “যে ব্যক্তি ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং নিষেধ করে খারাপ কাজ থেকে তার ধৈর্য, সহানুভূতি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকতে হবে।” প্রসঙ্গত তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। একবার এক ব্যক্তি খলীফা আল-মামুনের দরবারে এসে কর্কশ ভাষায় পাপ-পুণ্য বিষয়ক পরামর্শ দান শুরু করলো। ফিকাহ সম্পর্কে আল-মামুনের ভালো জ্ঞান ছিলো। তিনি লোকটিকে বললেন, “ভদ্রভাবে কথা বলো। স্মরণ করো আল্লাহ তোমার চেয়েও ভালো লোককে আমার চেয়েও একজন খারাপ শাসকের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে নম্রভাবে কথা বলার আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি মুসা (আ) এবং হারুনকে (আ) যারা তোমার চেয়েও ভালো পাঠিয়েছিলেন ফিরআউনের কাছে, যে আমার চেয়েও খারাপ ছিলো এবং তাদেরকে আদেশ দিয়েছিলেন, “তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। “অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।” [২০: ৪৩-৪৪]

এভাবে মামুন তর্কে জয়ী হলেন। আল্লাহ মূসাকে (আলাইহিস সালাম) ভদ্র ভাষায় ফিরাউনের কাছে দাওয়াত পেশ করার শিক্ষা দিয়েছেন। মূসা (আ) ও ফিরাউনের মধ্যকার সংলাপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফিরাউনের ঔদ্ধত্য, নিষ্ঠুরতা ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সত্ত্বেও মূসা (আ) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দাওয়াত পেশ করেছেন। সূরা আশ-শূরায় এ বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়।

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করলেও আমরা দেখি দয়া, মায়া, নম্রতা সেখানে কঠোরতার কোন অবকাশ নেই। তাই কুরআন বলছে, “তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।” [৯:১২৮]

সাহাবীদের সাথে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কুরআন বলছে, “আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।” [৩:১৫৯]


* * * * * *
[ইসলামি পুনর্জাগরণ : সমস্যা ও সম্ভাবনা, ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি, পৃষ্ঠা ১২৯]

Advertisements
No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: