Skip to content

সন্ধিক্ষণ

জানুয়ারি 1, 2014

লেখক: ইসমাইল কামদার, হেড টিউটোরিয়াল অ্যাসিস্টেন্ট, ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি

crossed

এর আগে যদি কখনো জেনে না থাকেন কে ছিলেন ‘আ’ইশাহ বিন্‌ত আবি বাক্‌র, তাঁর ভাগ্নের মুখের শুনুন তাঁর বৃত্তান্ত:

“ফিক়্‌হ, মেডিসিন ও কবিতায় ‘আ’ইশাহর চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে কখনো দেখিনি। আবু হুরায়রাহর পর রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে সবচেয়ে বেশি হাদীস যদি কেউ বর্ণনা করে থাকেন তাহলে তিনি ‘আ’ইশাহ। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।” (সাহাবীদের মধ্যে বর্ণনাকারীদের মধ্যে আজ তাঁর অবস্থান চতুর্থ।)

আতা ইবন আবি রাবা ‘আ’ইশাহর ব্যাপারে বলেছেন, “অন্যান্যদের মধ্যে ‘আ’ইশাহ ছিলেন সবচেয়ে সেরা আইনজ্ঞ, সবচেয়ে জ্ঞানী। সাধারণভাবে তাঁর রায়গুলো ছিল সর্বোত্তম। (বিদায়া ওয়া নিহায়া, খণ্ড:৮, পৃ‌.২৬৩-২৬৪)।”

প্রখ্যাত এই ‘আলিম ও আমাদের প্রিয় জননী ‘আ’ইশাহ যখন অসুস্থতার কারণে চূড়ান্ত শয্যায়, আরেক বিখ্যাত ‘আলিম আব্‌দুল্লাহ ইবন আব্বাস তাঁকে দেখতে এলেন। অনুমতি নিয়ে তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। সে সময় ‘আ’ইশাহর ঘরে ছিলেন তাঁর ভাগ্নে আব্‌দুল্লাহ ইবন আব্‌দুর-রাহ়মান।

বাষট্টি বছরের প্রবীণ ‘আ’ইশাহ প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর স্রষ্টার কাছে ফিরে যেতে। ইবন আব্বাস ‘আ’ইশাহকে বললেন, “আপনার জন্য তো এটা সুসংবাদ।” ‘আ’ইশাহ জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?”

ইবন আব্বাস বললেন, “আপনার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ মুহাম্মাদ (তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সাক্ষাত পেতে আর তো কিছুক্ষণের অপেক্ষা। আপনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়। রাসূলুল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসতেন, যারা ছিলেন পবিত্র।

“আবওয়ার রাতে যেদিন আপনার গলার হার হারিয়ে গিয়েছিল সেদিন রাসূলুল্লাহ পুরো অভিযাত্রী দলকে থামিয়ে দিয়েছিলেন। হাড় খুঁজে পাওয়া না-পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেছিলেন। অথচ লোকজনের সাথে তখন পানি ছিল না। আল্লাহ তখন তায়াম্মুমের আয়াতগুলো অবতীর্ণ করলেন—আপনার হার যদি সেদিন না-হারাত তাহলে উম্মাহ হয়তো কখনোই এই ছাড় পেত না।

“আপনার নিষ্কলুষতার প্রমাণে সপ্ত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ সূরা নূরের আয়াত নাজিল করেছেন। আজ এমন কোনো মাসজিদ নেই যেখানে দিনে-রাতে এই আয়াতগুলো পাঠ করা হয় না।”

ইবন আব্বাসকে থামিয়ে দিয়ে ‘আ’ইশাহ বললেন, “অনেক বলেছেন ইবন আব্বাস, এবার থামুন। যার হাতে আমার আত্মা তার কসম, আমি যদি এ কথাগুলো না শুনেই মারা যেতাম, আর মানুষ আমাকে যদি ভুলে যেত।” (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাপরম্পরায় হাদীসটি বর্ণনা করেছে ইমাম আহ়মাদ। বিদায়া ওয়া নিহায়া, ইবন কাস়ীর, খণ্ড: ৮, পৃ. ২৬৫-২৬৬)

ইবন আব্বাসের উদ্ধৃতি থেকে আমরা যা শিখি:

১. মুসলিম ইতিহাসে ‘আ’ইশাহর উচ্চ মর্যাদা
২. মুসলিম উম্‌মাহর নারীরা সর্বোচ্চ যে-মর্যাদা অর্জন করতে পারেন তার দৃষ্টান্ত
৩. মৃত্যুর সময় আল্লাহর দয়া ও আশা যুগপৎভাবে কামনা করার গুরুত্ব
৪. মাহরাম উপস্থিত থাকলে পুরুষদের অসুস্থ নারীকে দেখার অনুমতি।
৫. ‘আলিম পর্যায়ের সাহাবীদের ‘আ’ইশাহর খোঁজখবর নেওয়া
৬‌. নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কেউ আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা পেতে পারেন।

‘আ’ইশাহ রাদ়িয়াল্লাহু আনহার প্রতিউত্তর থেকে আমরা যা শিখি:

পূর্বসূরি ন্যায়নিষ্ঠগণ মর্যাদা, খ্যাতি, কী পরিমাণ কাজ করেছেন এগুলো নিয়ে মোটেও চিন্তিত ছিলেন না। তাদের একমাত্র চিন্তার বিষয় ছিল, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আল্লাহ কর্তৃক কাজটার গ্রহণযোগ্যতা। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ‘আ’ইশাহ তাঁর সদ্‌গুণাবলি শুনে ভয় করছিলেন এগুলো রিয়ার কারণ হবে কিংবা মনে অহংকারের জন্ম দেবে। এগুলো না শুনে মৃত্যুবরণ করাটাই ছিল তার নিকট অধিক শ্রেয়।

এমনই ছিল সাহাবীদের ধর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতা।

আল্লাহ যেন আমাদের সেই তাওফীক দেন, যাতে আমরা সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি, তাঁদের চমৎকার গুণাবলিগুলোর অনুকরণে জীবন সাজাতে পারি।

* * * *
লেখাটি সংগৃহীত হয়েছে ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি – বাংলাদেশ ফেসবুক পেইজ থেকে।

No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: