Skip to content

স্কিল ডেভেলপমেন্ট সিরিজ: স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

জানুয়ারি 28, 2013

লিখেছেনঃ নূসরাত রহমান
Stress-Management
স্ট্রেস এর মধ্যে থাকেনা কে? দায়িত্বগুলি বহুমুখি হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে অস্থিরতা, কোনটা ছেড়ে কোনটা করব – চিন্তাগুলো বিক্ষিপ্ত হতে থাকে – আর বাড়তে থাকে খেদ, “কিছুই ঠিক মত করতে পারিনা”

স্ট্রেস বাড়লে মগজের ভেতর সেলফ ক্রিটিকের ব্যস্ততা বেড়ে যায়, বার বার মন কে বলতে থাকে, “তুমি কিছুই পারো না, অন্যরা দেখ কত স্মার্টলি এত কিছু সামলায়, আর তুমি?” স্ট্রেস এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত উদ্যম হারিয়ে ফেলা, কাজে ঢিলেমি করা, অবসন্নতা, বিষণ্ণতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এর জন্য কয়েকটা কাজ করতেই হবে,

টাইম ম্যানেজমেন্ট বা প্রায়োরিটি ম্যানেজমেন্ট – প্রতি রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ছোট্ট একটা লিস্টি করা, আগামি দিন কী কী কাজ হাতে আছে, কোনটা কতক্ষণ লাগবে, কোনটা কখন করলে ভালো হয় ইত্যাদি ইত্যাদি

ভালো লাগে এমন কোন কাজ করা – রুমের মধ্যে গান ছেড়ে কতক্ষণ হাত পা ছোঁড়াছুড়ি করলে যদি ভালো লাগে, তাহলে তাই করুন। ব্যায়াম স্ট্রেস কমানোর মহৌষধ। হাতের কাজ, গাছপালা অনেকের শখ, কারও শখ লেখালেখি, কেউ বই পড়ে আনন্দ পায়, এ ধরণের কিছু একটা সময় বের করে নিয়মিত করা।

শরীরের ও মনের যত্ন নেয়া – আমরা নিজেদের জন্য সময় দেয়াটাকে স্বার্থপরতা মনে করি। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে দাঁতে ব্যথা, নাক ফচফচ থাকলে মন মেজাজ কিছুই ভালো থাকে না, ফলশ্রুতিতে নিজের সহ ঘরের সবার স্ট্রেস বাড়ানোর অবস্থা হয়। নিজের বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ দুটো অংশেরই নিয়মিত যত্ন নেয়াটা নিশ্চিত করতে পারলে বেশ কিছু স্ট্রেস থেকে নিজেকে বাঁচানো যাবে।

সহযোগিতার নেটওয়ার্ক তৈরি করা – এমন কিছু মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা যারা সান্ত্বনা হোক, বন্ধুসুলভ আড্ডা হোক বা যে কোন ভাবেই, আপনাকে কিছুটা সময়ের জন্য স্ট্রেস থেকে দূরে রাখবে। সঙ্গটা যেন উপকারি হয়, যেন কিছু ভালো চিন্তা বা মোটিভেশন নিয়ে আপনি ফিরতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। গঠনমূলক উপদেশ দিতে পারে অমন কাউকে খুঁজে নিতে পারলে আরও ভালো।

মাঝে মধ্যে সব মাথা থেকে দূর করে দেয়ার কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে ভালো। নামাজ, মেডিটেশন, ছবি আঁকা থেকে, ঘুরতে যাওয়া, ঘর গুছান – যে কোন কিছুই হতে পারে।

উপরের টিপসগুলো হচ্ছে সবসময়ই যারা হাই স্ট্রেস এ থাকে তাদের জন্য। কখনো কখনো সাময়িক স্ট্রেস এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেমন পরীক্ষার আগে বা কোন ডেডলাইনের আগে, এসব ক্ষেত্রে উপরের মত পালিয়ে থাকার উপায় নেই, স্ট্রেস হবে বলে কাজটাই এড়িয়ে গেলে তো আর হল না।

এক্ষেত্রে সময় নিয়ে প্ল্যান করে তারপর কাজটা করলে স্ট্রেস কম হবে। যে কোন কাজ একেকটা এক্সপেরিমেন্ট এর মত। ৪০% প্ল্যান ও প্রস্তুতি, ২০% আসল কাজ, ৪০% ইভালুয়েশন। আমাদের বাসায় এক জার্মান ছেলে এসেছিল, তার থেকে শুনেছি ক্লাস সেভেন থেকে তার প্ল্যান ঠিক করা সে ২০১৪ তে এভিয়েশন স্কুলে ভর্তি হবে, তার আগে এক বছর বিশ্ব ভ্রমণ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কোথাও যেতে হলে দুই ঘণ্টা আগে গিয়ে স্টেশনে বসে থাকে, প্রতিদিন রাতে আগের করা প্ল্যান রিভিউ করে, অনেকটা পুরো জিনিসটা মুভির মত দেখে নেয়া আগে থেকেই, যাতে সম্ভাব্য সব অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকা যায়। প্ল্যান না করে কাজ করলে কাজের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকে বেশি, আর ঠিক মত না হলে দেয়ালে মাথা ঠোকা আর পুরোটা নতুন করে শুরু করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

সকালে ১৫ মিনিট আগে উঠুন। কলে পানি না থাকলেও তাড়াহুড়া কিছুটা কম হবে।

স্মৃতিশক্তির উপর আস্থা ছাড়ুন, লিখে রাখার অভ্যাস করুন। বাজার কী লাগবে, ইলেক্ট্রিসিটি বিল কবে দিতে হবে, এসাইনমেন্ট জমা দেবার তারিখ কবে, কাকে কবে ফোন দিতে হবে – সঅব!

একটা কাজ করতে কত রকমের ঝামেলা হতে পারে সব মনে মনে চিন্তা করে নিন আগে থেকেই। যদি উপায় থাকে সেগুলো যাতে না ঘটে তার ব্যবস্থা করুন। এই যেমন দূরের জার্নির আগের রাতে খেয়াল করে ফোনটা চার্জে দেয়া – ছোট্ট কাজটা অনেককে স্ট্রেস থেকে বাঁচাবে। এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার আগের রাতে যে কম্পিউটার ক্রাশ করবে ওটা তো নিশ্চিত! ব্যাক আপ রাখুন। এগুলো তো জানা কথা। কিন্তু আমরা যেহেতু উদ্দাম, বাধনহীন, কিচ্ছু কেয়ার না করা চরিত্রগুলোকেই নায়কোচিত মনে করি, তাই এগুলো করতে একটুও ভালো লাগেনা। বিশ্বাস করুন, প্ল্যানিং না করাটা মোটেও স্মার্টনেস এর লক্ষণ না। আসলে পরিকল্পনাহীন ছন্নছাড়া মানুষদের দিয়ে ইহকাল পরকাল কোথাও কাজের কাজ কিছু হয় না। নিজে নিজেই ফুলে ফেঁপে ‘আমি কী হনু রে!’ হয়ে বসে থাকে, ঐ পর্যন্তই!

একই কথা আলসেমির বেলায়ও। ডেডলাইন নাকের ডগায় আসার আগ পর্যন্ত কাজের ভাবটাই আসেনা। এই প্রোক্র্যাস্টিনেশন (সোজা বাংলায় ঢিলেমি) দূর করার উপায় নিয়ে লিখব আগামি পর্বে ইনশাআল্লাহ।


সহায়ক লিঙ্কঃ [পিডিএফ]

* * * * * * * * * *
লেখক সম্পর্কে:

নূসরাত রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মেরিল্যান্ডে বায়োলজিতে পিএইচডি করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির ছাত্রী ছিলেন তিনি । বিজ্ঞান থেকে যুক্তি ও বিশ্লেষণ শিখে পারিপার্শ্বিকতার কাছ থেকে দর্শন ও মূল্যবোধ গ্রহনের মাধ্যমে তিনি তার উপলব্ধিকে লেখার উপজীব্য করেছেন।

ব্যক্তিগত ব্লগ লিঙ্ক

Advertisements
3 টি মন্তব্য leave one →
  1. lipi permalink
    ফেব্রুয়ারি 26, 2013 7:36 অপরাহ্ন

    thx.amar akta question cilo,bashai ki fish ar pic rakha jabe?
    R ki ki pic aka jabe na ?

  2. lipi permalink
    ফেব্রুয়ারি 26, 2013 7:39 অপরাহ্ন

    amai painting kri,bachadarow shaikhai tai.amar abuu blacilo manushar pic aka jabe na,amar akto janar cilo ai smprka

  3. শাহরিয়ার নূর permalink
    অক্টোবর 22, 2013 7:39 পুর্বাহ্ন

    প্রাণীর ছবি খুব ঠেকায় না পড়লে যে কোনভাবে প্রতিকৃতি করা হারাম । বিস্তারিত হক্কানী আলেমের মাধ্যমে জেনে নিতে হবে ।

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: