Skip to content

নির্বাচিত ঈদ : শাহ মোহাম্মদ ফাহিম

অগাষ্ট 21, 2012


ঈদের দিন যখন বাড়ি থেকে বের হলাম
তখনো নিশ্চুপ গ্রামের জনপদ,
সকালের নরম রোদে চিকচিক করছে শিশির বিন্দু
ছায়াঘেরা শীর্ণঘরগুলোতে দারিদ্র্যের উপহাসে
চলছে ঈদ উৎসবের প্রস্তুতি।

রেললাইনের পরে দ্বিতীয় দোকানটা আব্দুল হকের
ঈদের নামাজের অনেক আগেই আজ সে দোকান খুলেছে,
মাজার মসজিদে যাওয়ার পথেই তার দোকান
ঈদের জামাতে যাওয়ার আগে যদি কেউ কিছু কেনে
তবে অন্তত দুপুরে চুলায় আগুণ জ্বলবে,
যদিও মেয়েটার কান্না বন্ধ হবে না
একটা লাল টুকটুকে জামার জন্য বায়না তার।

মাথায় মাছের ঝুড়ি নিয়ে রশিদ ছুটছে বাজারে
ঈদের ছুটিতে শহর হতে বড় বড় ধনীরা এসেছে,
শহরে তাজা মাছ পাওয়া যায়না,
ঈদের দিন দুপুরে নদীর তাজা মাছের উদরপূর্তি
বড়লোকের খুশির আমেজ বাড়িয়ে দিবে বহুগুণে,
আর রশিদ পাবে কিছু বাড়তি টাকা
বাড়িতে অসুস্থ মা,
ঈদের আনন্দটা তাই টাকার প্রয়োজনে বিলীন।

চৌধুরী বাড়িতে কাজ করে বারেকের মা,
ঈদের দিনে গেরস্ত বাড়ির অনেক কাজ
তাই ফজর পড়েই তার কাজ শুরু,
বাড়ি জুড়ে শহুরে মেহমান
অথচ বৃদ্ধ বারেকের মা যখন কাজ শুরু করে
তখনো বাড়ির সবাই অতল ঘুমে,
রাত জেগে চাঁদরাতের হক আদায় করে ক্লান্ত সবাই
বারেকের মাও রাতে ঘুমায় নাই
নিজ ঘরের ঈদ আয়োজন সে রাতেই সেরেছে
সারাদিনে তো আর ঘরে ফেরার সুযোগ হবেনা,
বারেকের মায়ের হাতের রান্নায়, বাটা মেহেদীর রঙে
গেরস্ত বাড়ির ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায়,
আর বারেকের মা পায় দিন শেষে একশ টাকা
টাকাটা আঁচলে গুঁজে সে মনে মনে ভাবে
অন্তত এ মাসের সুদের টাকাটা তো পরিশোধ করা যাবে।

মাজার মসজিদের ইমাম আজ খুব খুশি
ঈদের উসিলায় কিছু উপরি কামাই হবে
বাড়ি বাড়ি গিয়ে কবর জিয়ারতের দায়িত্বটা তারই
ঈদের দিনে ইমামের দোয়ার বিশেষ বরকত,
দুনিয়ার জীবনে যেমনই আমল করুক
দোয়ার বরাতে তাদের সবাইরে জান্নাতি বানাতে হবে,
তাতে অন্তত দু-চার পয়সা বখশিশ পাওয়া যাবে
ঈদের দিন পকেট গরম করার এইতো মোক্ষম উপায়।

নামাজ শেষে ইমাম খোৎবা দেয়
গ্রামের সরল মানুষগুলো না বুঝেই ইমামের উচ্চারণ শোনে,
আব্দুল হক, রশিদ, বারেকের মা, মাজার মসজিদের ইমাম-
এদের নির্বাচিত ঈদ নিয়ে আমি ভাবতে থাকি,
ইমাম সুর করে উম্মাহ, শান্তি, সাম্য, মুক্তির কথা কয়
আমার তারে খুব জিগাইতে ইচ্ছা হয়
মিষ্টি সুরে মুক্তির কথা কও,
শত শত মানুষেরে দোয়ার বরাতে জান্নাতি বানাও
তোমার মুক্তি মিলবে তো..

* * * * * * *
কবি পেশায় একজন চিকিৎসক

Advertisements
No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: