Skip to content

ইবনে তাইমিয়া প্রবচনগুচ্ছ

জুলাই 10, 2012



লেখাটি লিখেছেনঃ স্বপ্নচারী আব্দুল্লাহ

“কারো উপরে বেশি নির্ভরশীল হয়ে যেয়ো না। মনে রেখো,
অন্ধকারে তোমার নিজের ছায়াও তোমাকে ছেড়ে চলে যায়।”
— ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা

“আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা আর নিজেদের মাঝে বিভক্ত না হয়ে যাওয়া ইসলামের সবচেয়ে বড় উসূল (বুনিয়াদ) এর একটি ।”
— ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা

“জ্ঞানার্জন ছাড়া দিক-নির্দেশনা অর্জন করা যায় না। আর ধৈর্য্যধারণ ছাড়া সঠিক পথের দিশা অর্জন করা যায়না।”

– ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহিমাহুল্লাহ)
[মাজমু’আল ফাতাওয়া : ভলিউম ১০/৪০]

“আমার শত্রুরা আমার কিইবা করতে পারবে? আমার জান্নাত তো আমার অন্তরে। আমি যেখানেই যাই সে আমার সাথে সাথেই থাকে, আমার থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয়না সেটা। কারাগার আমার ইবাদতের জন্য নির্জন আশ্রয়স্থল, মৃত্যুদন্ড আমার জন্য শাহাদাতের সুযোগ, আর দেশ থেকে নির্বাসন হচ্ছে আমার জন্য এক আধ্যাত্মিক ভ্রমণ।”

– ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহিমাহুল্লাহ)
[ইবনুল কাইয়িম, আল ওয়াবিল,পৃ ৬৯]

“ঈমানদারদের জীবন ক্রমাগত বিভিন্ন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করানো হয় তাদের ঈমানকে বিশুদ্ধ এবং তাদের পাপকে মোচন করানোর জন্য। কারণ, ঈমানদারগণ তাদের জীবনের প্রতিটি কাজ করেন কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; আর তাই জীবনে সহ্য করা এই দুঃখ-কষ্টগুলোর জন্য তাদের পুরষ্কার দেয়া আল্লাহর জন্য অপরিহার্য হয়ে যায়।”
— ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা
[মাজমু’আল ফাতাওয়া : ভলিউম ১৮/ ২৯১-৩০৫]

ফেসবুক পেজ লিঙ্কঃ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ

একজন মানুষের কিছু প্রবচন পড়ে, কিছু লেখার অংশবিশেষ পড়ে মুগ্ধ হয়ে আরো কিছু লেখায় ডুব দিলাম। কী দারুণ তার দর্শন, কী অসাধারণ তার জ্ঞানের দীপ্তি! তারপর তার জীবনী পড়ে চোখগুলো ঝাপসা হয়ে এলো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সদাজাগ্রত এই মানুষটিকে জীবনে অনেকবার বঞ্চনা-গঞ্জনার সহ্য হতে হয়েছে, এমনকি উনার মৃত্যুও হয়েছে জালিম শাসকের কারাগারে।

মানুষটা হলেন ইতিহাসে “শাইখুল ইসলাম” হিসেবে খ্যাত ইমাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ। কুরআন, সুন্নাহ সম্পর্কিত তার জ্ঞানের অপার গভীরতা, ইসলামের খুব সঙ্কটময় সময়ে তার অপরিসীম অবদানের কারণে তিনি পৃথিবীতে মুসলিম উম্মাহর কাছে “শাইখ-উল-ইসলাম” হিসেবে পরিচিত। ইমাম তাইমিয়্যা জন্মগ্রহণ করেন ১২৬৩ খ্রিষ্টাব্দে হাররান শহরে, যা এখন তুরষ্কের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৩২৮ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে।

ইবনে তাইমিয়্যা জন্মেছিলেন এমন পরিবারে যেখানে তার পিতা এবং দাদা সবাই ছিলেন আলেমে দ্বীন। ইমাম তাইমিয়্যা ছিলেন অসাধারণ মেধাবী, পান্ডিত্যসম্পন্ন মানুষ। তৎকালীন শাসকদের অনাচারে তিনি কখনই প্রতিবাদ করতে পিছপা হননি। তাকে একাধিকবার জেলখানায় বন্দী করা হয়। তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাবার আগের বছরটায় তার কারাগারে কোন বই, কাগজ, কলম নিতে দেয়া হয়নি।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা মৃত্যুর আগে কারাগারে অন্তরীণ থাকার এ সময়টাতে কেবলমাত্র কুরআন তিলাওয়াত আর ইবাদাতে মশগুল ছিলেন। ২২ যুলক্কাদা ৭২৮ হিজরীতে দামেশকের কারাগারে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইসলামের জ্ঞানের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। ইমাম তাইমিয়্যার একজন উল্লেখযোগ্য উত্তরসূরী হলেন হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ।

নির্ঘন্ট

  • সংক্ষিপ্ত এই জীবনীর তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া
  • ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার বইঃ Expounds On Islam [প্রায় ৭১২ পৃষ্ঠা — পিডিএফ]

Advertisements
3 টি মন্তব্য leave one →
  1. মার্চ 28, 2013 2:09 অপরাহ্ন

  2. মার্চ 28, 2013 2:09 অপরাহ্ন

    জাযাক আল্লাহ খাইরান।

Trackbacks

  1. ইমাম ইবনে তাইমিয়া প্রবচনগুচ্ছ « আলোকিত প্রাণের বাণী

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: