Skip to content

কুরআনের অলৌকিকতা (Miracle of Quran)

নভেম্বর 2, 2011

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করিঃ আমার পরিচিত এক যুক্তিবাদী আর মুক্তমনা নাস্তিক এসে একবার আমাকে কিছু কথা বলল যার সারমর্ম হচ্ছে , “ ফাহিম, তোর ইসলাম আর তার যেই মিরাকেলগুলা দেখি আমার হাসি পায় । তোর মত যুক্তিবাদী (!?!) ছেলে ইসলাম গ্রহন করে কিভাবে?”

আমি তাকে কি উত্তর দিয়েছিলাম তা একটু পরে বলছি কারন আপাতত আমার লেখার ভুমিকা দেয়া হয়ে গেছে ।

অনেকের কাছেই হয়তো ব্যাপারটা এখনো পরিস্কার হয় নি । বুঝিয়ে বলছি । গোড়া থেকে শুরু করি ।এই যুক্তিবাদী আর মুক্তমনা নাস্তিক আসলেই বেশ যুক্তিবাদী এবং প্রতিভাবান । বেশ কয়েক বছর আগে সে ইসলাম ত্যাগ করে । ত্যাগ করার আগে সে বেশ কিছু দিন ইসলাম নিয়ে নাড়াচাড়া করেছে । সে সন্তুষ্ট হতে পারে নাই । নামায পড়া , অযু করা এসব তার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে । তার কয়েক বছর পরে তার সাথে আমার দেখা হয় । তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম , “কি হইলে তুই ইসলাম গ্রহন করবি ?” তার উত্তর ছিলো, ”Amaze me”

উত্তরটা আমার পছন্দ হয়েছে । আসলেই তো । আল্লাহ তাআলা কাউকে জোর করে ইসলাম গ্রহন করতে বলেন নি । তিনি যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন মানুষের দিক নিরদেশনার জন্য । তাদের তিনি খালি হাতে পাঠান নি । সাথে ছিলো মুযিযা । যা দেখে তারা বুঝতে পারে যে ইনি আসলেই আল্লাহর নবী বা রাসুল । কল্পনা করুন আপনার পাশের বাসার একজন ; যাকে আপনি অনেক বছর ধরে চেনেন, আপনাকে এসে হটাত এসে বলল “আল্লাহ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন । এখন থেকে আমি যা বলবো তা আমার কথা না বরং আল্লাহর কথা । আর আমার বিরোধিতা করলে আপনি জাহান্নামে যাবেন” আপনি কি করবেন? র‍্যাব ডাকবেন নিশ্চিত । কিন্তু কল্পনা করেন আপনি অতীতে । আপনি হযরত মুসা(আ) এর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন । আর তিনি পানিতে বাড়ি দিয়ে নদীর পানি দুই ভাগ করলেন। কিংবা তার হাতের লাঠি সাপ হয়ে গেলো । অথবা মনে করুন আপনি হযরত ঈসা (আ) সাথে আছেন । তিনি অন্ধকে সুস্থ করে দিচ্ছেন ।স্পর্শ করে কুষ্ঠ ভালো করছেন । তখন আপনার কি তাকে নবী হিসেবে মানতে সমস্যা হত ?

তাহলে বোঝা গেলো যদি কাউকে দেখানো যায় যে আপনি যা করছেন তা অই সময় করো পক্ষে করা কোনভাবেই সম্ভব না তাহলে আপনি হয়তো ঈমান আনবেন বা অন্তত ভেবে দেখবেন । আল্লাহ তায়ালা অন্ধ ভাবে কিছু কে উপাসনা করা পছন্দ করেন না । তাইতো তিনি মুশরিক আর মুরতি পূজকদের উদ্দেশ্য করে বলেন

“Behold! In the creation Of the heavens and the earth, And the alternation Of Night and Day – There are indeed Signs For men of understanding.” [Al-Qur’aan 3:190]

আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) কেও মুযিযা দিয়েই মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন । সর্বশ্রেষ্ঠ যে মুযিযা আমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন তা হল আল- কুরআন । — এটা আর নতুন করে বলার নাই । সবাই অনেক আগে থেকেই জানে । এবার আমি আরো কিছু কথা বলবো । এগুলোও আসলে নতুন করে বলার নাই । অনেক আগে থেকেই সবাই জানতো । কিন্তু এখন জানে না । আর জানেনা বলেই আজ আমাদের ইমানের এই বেহাল দশা ।

আমরা জানি সময়ের সাথে সব কিছুই বদলে যায় । মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি , চিন্তা ভাবনা সব কিছু । এমনকি মানুষ আল্লাহ বানী কেও পাল্টে ফেলে । যুগে যুগে এটা হয়ে এসেছে । কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কুরআন কে রক্ষা করার কারনে এখনো তা অবিকৃত আছে ।তাই বলে কিন্তু আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি অবিকৃত নেই । বিজ্ঞানের সাথে আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গিও পাল্টে গেছে ।

“এতো জানা কথা । নতুন করে বলার কি আছে?” আছে । কারন আছে । বুঝিয়ে বলছি ।তার আগে কিছু কথা বলে নিই।

আল- কুরআন , একটা বই , আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ মুযিযা । এটা ইসলামের সত্ততার প্রমান । বুক সেলফে রাখা বইটি আল্লাহর প্রদত্ত অলৌকিকতার নিদর্শন। বিশ্বাস হয়?

আমরা যখন কুরআন এর অলৌকিকতা নিয়ে আলোচনা করি তখন কি কি বলি? কুরআন আর বিজ্ঞান এর তুলনা দেই । কুরআন এ সূর্য , পৃথিবী , চাঁদ এদের নিজস্ব কক্ষপথের কথা বলা আছে । চাদের আলো নিজস্ব না তা বলে দেয়া আছে । পৃথিবী গোল এবং তার সঠিক আকৃতি (Oblate spheroid) দেয়া আছে । পদার্থ-প্রতি পদার্থ (anti-matter)এর কথা বলা আছে । আমাদের শরীরের বেদনা উদ্দিপক (pain receptor) আমাদের ত্বক এ আছে তা বলে দেয়া আছে । মহা বিশ্ব সৃষ্টির কথা বলা আছে (বর্তমানে এটি বিগ ব্যাং থিওরি বলা হয় )। মহাবিশ্ব প্রসারণশীল বলে দেয়া আছে । মানব ভ্রুনের বিকাশ নিরভুল ভাবে বলা আছে । এভাবে সারাদিন বলে যেতে থাকি ।

এবার একটু ভিন্ন ভাবে চিন্তা করুন । মনে করুন আপনি মহানবী (সা) এর সময় আছেন । তিনি আপনাকে ইসলাম এর দাওয়াত দিলেন । সে সময়ের কথা ভাবুন একটু । মাত্র কয়েক জন মুসলিম হয়েছে। যারা হয়েছে তাদের উপর চলছে নির্যাতন । যুগ যুগ ধরে আপনি মূর্তি পূজা করছেন । হথাত আপনি শুধু মুখের কথায় ইসলাম গ্রহন করবেন??? কোন প্রমান না দেখেই ? কিছু না বুঝেই ? সে সময় তো আল্লাহর রাসুল কোন ‘বিজ্ঞান আর কুরআন’ নিয়ে আলোচনা করেন নি । তাহলে ?তাদের কি হয়েছিলো আসলে?কুরআন এ কি দেখে তারা এত দৃঢ় ঈমান এনেছিলো ? আসুন ইতিহাস নিয়ে একটু ঘাঁটাইঃ

১।

সীরাত ইবনে হিশাম থেকে জানা যায়, যখন কুরাইশ রা দেখতে পেলো আল্লাহর রাসুল (সা) এর ইমানদার এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে তখন উতবা ইবনে রবী’আ কুরাইশ দের অনুমতিক্রমে তাঁর সাথে দেখা করলো । তিনি আল্লাহর রাসুল (সা) কে আক্ক্রমন করে বলল “যে তরীকা আর দীন তুমি এনেছো তাঁর পেছনে তোমার উদ্দেশ্য যদি হয় ধন সম্পদ তোমাকে আমাদের মধ্যে সব থেকে ধনবান করা হবে…” তার প্রস্তাব গ্রহন করলে দাওয়াত থেকে বিরত হতে হবে । উতবার কথা শেষ হলে আল্লাহর রাসুল(সা) বললেনঃ যা কিছু বলার তা কি বলেছো ? সে বললঃ হ্যাঁ । তিনি বললেনঃ তাহলে এবার আমার কথা শোন ।

এরপর তিনি সূরা ফুসসিলাত এর কিছু আয়াত সিজদার অবধি তিলাওয়াত করলেন আর তারপর সিজদা করলেন ।

উতবা যখন কুরাইশ দের কাছে ফিরে গেলো তখন সবাই দেখলো তার চেহারা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে । সবাই জেঁকে ধরলে তিনি তাদের বললেনঃ “আমি তার মুখে এমন এক কালাম শুনেছি যা এর আগে কখনো শুনিনি । ….এ কালাম কোন যাদু নয় গননাবিদ্যা নয় , জ্যোতির্বিদ্যা নয় । আমার কথা শোন এবং অই লোকটাকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দাও” বলা বাহুল্য তিনি একথা বলার সময় ইসলাম গ্রহন করেন নি ।

২।

আবিসিনিয়ায় মুসলমানদের প্রথম হিজরতের পর কুরাইশরা সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে রবি’আ আর ‘আমর ইবনুল – ‘আস ইবনে ওয়াইল কে পাঠায় মুসলিমদের আবিসিনিয়া থেকে বের করে দেবার জন্য । তারা সেখানে গিয়ে আবিসিনিয়ায় সম্রাট কে অনুরোধ করে আর মুসলিমদের নিন্দা করে । তখন সম্রাট নাজাশী তাদের বলেনঃ “তোমাদের সেই ধর্ম কি যার জন্য তোমরা দেশ ও জাতি পরিত্যাগ করেছো আর এর পর না আমার ধর্ম কবুল করেছো আর না অন্য কোন পরিচিত ধর্ম কবুল করেছো?”

তখন জা’ফর ইবন আবী তালিব(রা) নাজাশীর নির্দেশক্রমে সূরা মারইয়ামের প্রথম দিকের কিছু তেলাওয়াত করেন । শুনে নাজাশী কেঁদে ফেলেন এমনকি সেখানকার পাদ্রি রাও কাদতে থাকে ।এবং তিনি মুসলিম দের অভয় দান করেন ।

৩।

হযরত ওমর ইবনু’ল খাত্তাব(রা) একবার খোলা তলোয়ার নিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা) এর উদ্দেশে বের হন ।পথিমধ্যে তিনি শুনতে পান তার বোন ফাতিমা(রা) মুসলমান হয়ে গিয়েছে । তিনি তার বাসায় গিয়ে তার জামাতা আর বোন কে মারধর করেন ।ঊমর ছিলেন শিক্ষিত । পরে তিনি তাদের বলেনঃ”কিছুক্ষন আগে তোমরা যা পড়ছিলে আমাকে দাও । আমি জানতে চাই মুহাম্মাদ তোমাদের কি শেখান” এর পর তিনি তাদের কাছ থেকে নিয়ে সূরা তা-হা পড়া শুরু করলেন । কিছু দূর পড়ার পর তিনি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহন করেন ।

এই তিনটি ঘটনা নিয়ে একটু ভাবা যাক । প্রথমটিতে বক্তা ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা) । দ্বিতীয়টিতে জা’ফর (রা) । পরেরটিতে বক্তা কেউই ছিলো না ,ওমর(রা) নিজেই পড়েছেন । কিন্তু তিন ক্ষেত্রেই একটা জিনিসই ছিলো যার কারনে এই প্রায় অবাস্তব ঘটনা গুলো ঘটেছে । সেটা কি তা তো বুঝতেই পারছেন ! সুবহানাল্লাহ !

এখন আসুন ভাবা যাক , কি এমন ছিলো এর মধ্যে যার জন্য বহু কাফের ইসলাম গ্রহন করেছিলো ? এমনকি আবু জাহল এর মত কাফের ও রাতে লুকিয়ে কুরআন শুনতে রাসুলুল্লাহ (সা) এর ঘরে কান পেতে থাকতো ? নিশ্চয়ই কুরআন আর বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা হত না তখন । কুরআনের সব আয়াত কিন্তু বিজ্ঞান নিয়ে নয় । সব গুলো আয়াত ভবিষ্যতবাণী নয় । এরকম বেশ কম ই আছে । কিন্তু আমরা জানি কুরআনের প্রত্যেকটি আয়াত ই মিরাকেল । (in fact আয়াত শব্দটির অর্থ sign/miracle)

তাহলে? বোঝাই যাচ্ছে আমরা কিছু একটা মিস করছি । কিন্তু সেটা কি ? আন্দাজ করতে পারছেন ?

অনেকেই হয়তো ভাবছেন “আচ্ছা অতীত নিয়ে তো অনেক কথা বলাই যায় । এখন যুগ অন্য । মানুষ এখন অনেক ‘intellectual’ তাই এসব কাহিনী এখন মূল্য হীন”

আচ্ছা তাহলে আমরা একটু বর্তমান সময়ের দিকে দৃষ্টি দেই । দেখা যাক বর্তমান যুগের কিছু জ্ঞানীর অভিমত কিঃ

“In making the present attempt to improve on the performance of predecessors, and to produce something which might be accepted as echoing however faintly the sublime rhetoric of the Arabic Koran, I have been at pain to study the intricate and richly varied rhythms which – apart from the message itself – constitutes the Koran’s undeniable claim to rank amongst the greatest literary masterpieces of mankind. ”

Coming from a prominent Orientalist and litterateur deeply conversant with Arabic, this excerpt fromA.J. Arberry’s translation of the Qur’an highlights its literary excellence.

Schact describes the nature of the Qur’anic style,

“The Koran was also a linguistic document of incomparable importance. It was viewed as a source of grammatical and lexicographical information. Its stylistic inimitability not-with-standing, it even came to be treated as a standard for theories of literary criticism.”

Stubbe explains:

“The truth is I do not find any understanding author who controverts the elegance of Al-Qur’an, it being generally esteemed as the standard of the Arabic language and eloquence.”

Palmer explains:

“That the best of Arab writers has never succeeded in producing anything equal in merit to the Qur’an itself is not surprising.”

Hirschfield states ,

“The Qur’an is unapproachable as regards convincing power eloquence and even composition.”

Zammit comments ,

“Notwithstanding the literary excellence of some of the long pre-Islamic poems, or qasaid, the Qur’an is definitely on a level of its own as the most eminent written manifestation of the Arabic language.”

এরকম আরো অনেক ভাষাবিদ , সাহিত্যিক এর কথা বলা যাবে যারা কুরআন এর ভাষা – ভঙ্গি – শব্দ চয়ন – ছন্দ ইত্যাদি দিয়ে মুগ্ধ । আমি শুধু আমার পয়েন্টটা পরিস্কার করতে চাই । কুরআন এর এই দিক টি এত শক্তি শালী যা মানুষকে শোনা মাত্র অন্য রকম করে ফেলে । আমরা এটা সহজেই বুঝতে পারি যে যখন আমরা কথা বলি তখন সঠিকভাবে কথা বললে মানুষ কত মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত হয় । যুগে যুগে দেখা যায় মানুষ শুধু একটা জ্বালাময়ী ভাষণ শুনে অসম্ভব সম্ভব করে ফেলেছে , দেশ স্বাধীন করে ফেলছে। আর এই জন্যই আল্লাহ তায়ালা এমন এক বানী দিয়েছেন যা শোনা মাত্র আমাদের মনে ঝড় উঠে ।আর এটাই কুরআন এর অন্যতম অলৌকিকতা । এর প্রতিটি শব্দ নিখুঁত , ধারালো আর হৃদয় স্পর্শ করে । অন্তর কাঁপিয়ে দেয় একেক টি আয়াত । কোন শব্দ কে পরিবর্তন করলে পুরো জিনিশটাই হারিয়ে যায় । অর্থগত , ভাবগত মিল বন্ধন এতোই নিখুঁত !

…………..কিন্তু কই? এরকম তো হয় না ।উল্টা বিধর্মীরা কুরআন পড়ে মুগ্ধ কিন্তু আমরা কোন কিছুই তো অনুভব করতে পারি না !কেন??? এ কি হচ্ছে??

এ বিষয়ে এক ব্যক্তির মন্তব্য তুলে ধরিঃ

Dawood, an Iraqi Jewish Scholar in his translation of the Qur’an comments on the sum

effect of these and numerous other literary qualities of the Quran, describing it as a ‘literary masterpiece’:

“The Koran is the earliest and by far the finest work of Classical Arabic prose… It is acknowledged that the Koran is not only one of the most influential books of prophetic literature but also a literary masterpiece in its own right… translations have, in my opinion, practically failed to convey both the meaning and the rhetorical grandeur of the original. ”

আসলে আল্লাহর সৃষ্টি আর মানুষের সৃষ্টির কোন তুলনা নেই । যখন আমরা কুরআন পড়ি তখন আমরা শুধু অনুবাদ ই পড়ে যাই । আর অনুবাদ মানুষের সৃষ্টি । এখানে শব্দ চয়ন করে মানুষ । বাক্য বানায় ও মানুষ । কিভাবে সেখানে আমরা অলৌকিকতা খুঁজে পাবো ? কোন মতে কিছু অর্থ হয়তো জানা যাবে কিন্তু আমাদের হৃদয় সেভাবে কম্পিত হবে না । আর এটাই একমাত্র কারন আমাদের বেহাল দশার । এর প্রধান কারন আরবী ভাষা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান নাই বললেই চলে । আর Classical Arabic Language তো কথাই নাই । তাহলে কিভাবে আমরা অনুভব করে পারবো ? শুনেছেন যে কেউ অনুবাদ পড়ে আসল বই এর মজা পেয়েছে ? আপনি গ্যোটে / হ্যামলেট / ওডিসি এসব অনুবাদ পড়ে ধারনা করতে পারবেন লেখকের আসল লেখা সম্পর্কে ? তাহলে আল্লাহর বই অনুবাদ দিয়ে কিভাবে বুঝবেন ?

এখানে বলে রাখি আমি কিন্তু কোনভাবেই কুরআন এ বিজ্ঞানের নিদর্শন গুলো কে ছোট করে দেখছি না । সেটাও নিদর্শন । কিন্তু এক মাত্র নয় ।অনেক নিদর্শনের মধ্যে একটি । আমরা শুধু কুরআন কে এক দিক থেকেই দেখছি আসলে এর মাত্রা অনেক।এবং সব থেকে প্রভাবশালী নিদর্শন টা থেকেই আমরা বঞ্চিত ।

আসলে আল- কুরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ মুযিযা । এর কারন এটি কোন মানুষের পক্ষে বানানো অসম্ভব ।এর কারন এটি নিখুঁত । কোন দিক থেকেই এর মধ্যে কোন রকম ত্রুটি নেই । বিভিন্ন দিক থেকে এর মধ্যে আমরা নিদর্শন খুঁজে পাই । আর একটা ব্যাপার হচ্ছে এটি সব কালের মানুষের জন্যই এসেছে ।তাই না না দিক থেকে এর অনন্যতা পাওয়া সম্ভব । তাই কুরআন যেমন সাহিত্যিক দিক থেকে আদর্শ (literary integrity), ঐতিহাসিক দিক থেকে নির্ভুল (Historical integrity), বিজ্ঞানের দিক থেকেও নিখুঁত এবং এরকম আরো অনেক দিক আছে। আর তাই আল্লাহ তায়ালা সরাসরি ঘোষণা দেনঃ

“If you are in doubt of what We have revealed to Our messenger, then produce one chapter like it. Call upon all your helpers, besides Allah, if you are truthful” [Qur’an 2: 23]

“Or do they say he fabricated the message? Nay, they have no faith. Let them produce a recital like it, if they speak the truth.” [Qur’an 52: 33-4]

এবার একটু ভাবুন তো দেখি , মহানবী (সা) ছিলেন অশিক্ষিত । তিনি কোথাও গিয়ে শিক্ষা নেন নি । আর তিনি কুরআন লিখে যান নি । লেখার জিনিশ প্রকাশের আগে পরিমার্জিত করা যায় । ভুল হলে ঠিক করা যায় । কিন্তু তিনি মুখে তিলাওয়াত করতেন । একবার তার মুখ থেকে বের হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন সম্ভব না । তাহলে তিনি কিভাবে কুরআন সৃষ্টি করতে পারেন যেখানে কুরআন সব দিক থেকে এত নিখুঁত আর নির্ভুল ? এর জন্য তাকে আগের ও পরের সব আয়াত জানতে হবে , কোথাও যেন কোনভাবে contradict না করে তা দেখতে হবে ,অচিন্তনীয় পরিমান ইতিহাস জানতে হবে , ভালো ভাষা জ্ঞান থাকা লাগবে , ভালো বিজ্ঞানবিদ হতে হবে , ভালো চিন্তাবিদ হতে হবে , ভালো দার্শনিক হতে হবে এবং এসব কিছু এক সাথে মাথায় রেখে প্রত্যেক আয়াত বানাতে হবে !

আবার খেয়াল করে দেখুন মহানবীর (সা) এর জীবনে অনেক চড়াই উতরাই এসেছে । কোন সময় তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন । কোন সময় তাঁর চাচা মারা গেছেন । কখনো তিনি ছিলেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে । তাঁকে দুঃখ কষ্ট অতিক্ক্রম করতে হয়েছে । কিন্তু কুরআন এ এর কোন প্রভাব পড়েনি । এর style এর কোন পরিবর্তন হয় নি । কোন ভুল ও হয় নি । কুরআন একক । হাদিস এর সাথে এর কোন রকম তুলনাই চলে না । হাদিস এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী style। এক জন মানুষ কিভাবে এক সাথে এই দুই ভাবে কথা বলতে পারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ? কিভাবে এই দুই সত্তা এক সাথে ধারন করতে পারে যার একটি হচ্ছে অনন্য ও অতুলনীয় ? এটা কিভাবে সম্ভব হতে পারে ?

এসব বুঝতে হলে আগে আমাদের কুরআন ভালো করে পড়তে হবে । এর অনন্যতা , অলৌকিকতা অনুধাবন করতে হবে । বাংলা বা অনুবাদ নয় বরং কুরআন যা আল্লাহ নাযিল করেছেন।

“And truly this (the Qur’ân) is a revelation from the Lord of the ‘Alamin (mankind, jinns and all that exists), which the trustworthy Ruh (Jibreel) has brought down upon your heart (O Muhammad) that you may be (one) of the warners, in the plain Arabic language” [Soorah ash-Shura: 192-195]

শুরুতে এক নাস্তিক এর প্রশ্ন দিয়ে ভুমিকা দিয়েছিলাম । উপসংহার দিচ্ছি তার উত্তর দিয়ে । তখন উত্তরে যা বলেছিলাম হুবহু তুলে ধরিঃ

“Let me show you a little bit of Quran sometime 🙂 ”

আল্লাহ তায়ালা আমাদের আল- কুরআনের অনন্যতা বোঝার ও তার প্রতি ইমান আনার তৌফিক দিন । আমীন ।

উৎসঃ

১) সীরাত ইবন হিশাম

২) নবীয়ে রহমত

৩)Quran and modern science -Dr. Zakir Neik

৪)An Introduction to the Literary & Linguistic Excellence of the Qur’an

৫)

যারা আরবী ভাষা শিখতে চানঃ

madina book series and other collection

Date: 1/11/11
Time:5:52 PM

Advertisements
No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: