Skip to content

আল্লাহর আইনঃ শরীফ আবু হায়াত

অক্টোবর 17, 2011

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

কন্ধকাটা নামে এক ধরণের ভূত আছে, যাদের নাকি মাথা নেই। হলই না হয় ভূত, মাথা ছাড়া কিভাবে সে দেখে, কথা বলে, আবার মানুষকে খুঁজেপেতে ধরে ভয় দেখায় – তা আমার বোধে আসে না। তবে কন্ধকাটা ভূত না দেখলেও এক ধরণের কন্ধকাটা চারপাশে হরহামেশাই দেখি – এর নাম কন্ধকাটা ইসলাম। ইসলামের মাথা তাওহিদ – তা ছাড়া দেহের বাকি সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো। মুসলিম দাবীকারী অসংখ্য মানুষকে তাওহিদ বিহীন কন্ধকাটা ইসলাম কাঁধে নিয়ে ঘুরতে দেখলেও আমরা যেন ভয় না পাই, তাই আল্লাহ কুরআনের সুরা ইউসুফে বলেছেন: অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে শির্কও করে১

তাওহিদকে বোঝাবার সুবিধার জন্য আলিমরা তিন ভাগে ভাগ করেছেন, তার প্রথম দু’টো হল:

  • তাওহিদ-আর-রুবুবিয়াত: আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত, তার গুণাবলী ও কাজে তাকে একক মনে করা।
  • তাওহিদ-আল-উলুহিয়াত: মানুষের কাজের সাথে জড়িত, আল্লাহর স্থানে অন্য কাউকে/কিছুকে এনে না বসানো।

– এ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ, একটাকেও অগ্রাহ্য করলে আল্লাহ ছাড় দেবেন না। তবে আমাদের কাছে বিবেচ্য হল মানুষ ভুল করে কোনটাতে? বেশীভাগ মানুষ ভুল করে তাওহিদ-আল-উলুহিয়াতে। যেমন, আল্লাহ সবকিছু দিতে পারেন এ বিশ্বাস কম-বেশী সব মুসলিম করে, এটা তাওহিদ-আর-রুবুবিয়াত। কিন্তু যখন সে মাজারে যায় কিছু চাইতে তখন তার কাজটা হয় তাওহিদ-আল-উলুহিয়াতে শির্ক। কারণ সে ভাবছে আল্লাহ দেন ঠিক আছে, কিন্তু মৃত এই বুজুর্গ অনেক ভাল ছিল বিধায় তার কথা শুনে আল্লাহ আমাকে একটু তাড়াতাড়ি দেবেন। অজ্ঞানতা থেকে জন্ম নেয়ে শির্ক এভাবে তাওহিদ-আল-উলুহিয়াতকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাওহিদ-আর-রুবুবিয়াত ঠিক থাকার পরেও তাওহিদ-আল-উলুহিয়াতে সমস্যা হতে পারে, এবং এটাই বেশীভাগ সময় হয়। এছাড়াও আরো অনেক কাজের মাধ্যমে মানুষ তাওহিদ-আল-উলুহিয়াতকে নষ্ট করতে পারে। ‘কন্ধকাটা ইসলাম’ কে ‘আসল ইসলাম’ মনে করা মানুষেরা তাওহিদের যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পর্কে অন্ধকারে আছে তা হল ‘আল্লাহর আইন’। মুসলিম নামধারী কেউ ভাবছে ‘আল্লাহর আইন’ বর্বর, কেউ ভাবছে দেশে এই আইন না থাকলে বুঝি আমরা সবাই কাফির।

ন্যায়-অন্যায় একেকজন মানুষ একেক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিচার করে। আজ থেকে দু’শ বছর আগে কোন কৃষক নীল চাষ করতে না চাইলে তার স্ত্রী-কন্যাকে ঘর থেকে তুলে নীলকুঠীতে নিয়ে ধর্ষণ করাটা ব্রিটিশ সাহবেদের কাছে খুবই ন্যায্য মনে হত, আজ তারা মুসলিম আইনে বিচার অমানবিক – এই মর্মে কথা তোলে। আজ ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ভাবছে সমকামিতা মানুষের অধিকার, হয়ত দুশ বছর পর যখন দেখবে দেশ চালানোর মানুষ নেই, তখন আবার তারা অন্য কথা বলবে। আমরা মুসলিমরা তাই কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল সেই বিচার আল্লাহর হাতে তুলে দেই যেন সকল যুগে, সকল জাতের মানুষের ক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায় একই রকম থাকে। এতে ক্ষমতালোভীরা আইনকে নিজেদের সুবিধায় ব্যবহার না করতে পারে না, আবার সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পায়, পৃথিবীতে শান্তি থাকে। মুসলিমরা অন্যায়ের সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য যেমন আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তেমনি সেই অপরাধের সাজা কী হবে তা জানতে আল্লাহর কাছেই ফিরে যায়। আল্লাহর আইন মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী কল্যাণ আনবে এবং সেই আইনের কাছে আমাদের সবার আত্মসমর্পণ করা উচিত – এই বিশ্বাস তাওহিদ-আর-রুবুবিয়াত। বিচারের ক্ষেত্রে তাওহিদ-আল-উলুহিয়াত মানে এই নয় যে, আল্লাহকে একমাত্র আইনদাতা হিসেবে মানতে হবে, বরং তাকে সর্বোচ্চ আইনদাতা হিসেবে মানতে হবে। আল্লাহ নিজে কিছু আইন প্রণয়নের সাথে সাথে কিছু মূলনীতি শিখিয়ে মানুষকেও আইন প্রণেতা হবার অনুমতি দিয়েছেন। সেই মূলনীতিগুলো ব্যবহার করে রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার চারজন খলিফা আমাদের জন্য ইসলামী আইনব্যবস্থার রূপরেখা দিয়ে গেছেন। এটা দিয়ে একজন মুসলিম শাসক শাসন করবেন, একজন মুসলিম বিচারক বিচার করবেন – সেটা হবে তাওহিদ-আল-উলুহিয়াত।

একজন মুসলিমের কর্তব্য আল্লাহর আদেশকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া, সেটা যতদূর সম্ভব নিজের জীবনে প্রয়োগ করা। আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি যখন পৃথিবীর খুব কম দেশেই আল্লাহর আইন প্রচলিত আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের নিজেদের জীবনে আল্লাহর আইন থাকবে না। দেশ, সমাজ বা সময়ের দোহাই দিয়ে জীবনে আল্লাহর হুকুমের গুরুত্ব কমানোর অবকাশ নেই। সাধারণ মুসলিমের কর্তব্য একটিই: “আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোন আনুগত্য নেই২” অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমের বিরোধীতায় অন্য কোন হুকুম সে মানবে না। এজন্য যদি তাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয় তবে সেটাই তার জন্য পরীক্ষা যার বিনিময়ে সে জান্নাত পাবে। ফ্রান্স যদি প্রকাশ্যে হিজাব নিষিদ্ধ করে তাহলে সেখানকার মুসলিমরা সেখান থেকে হিজরত করে কোন মুসলিম দেশে চলে আসবে। সেজন্য যদি তাদের জীবন যাত্রার মান নেমে যায়, কষ্ট করতে হয় – তারা সেটা করবে। আখিরাতে অনন্তকালের সুখ-শান্তি ভোগ করতে হলে দুনিয়ার কিছু আরাম তো ত্যাগ করতেই হবে।

যে দেশের বিচার ব্যবস্থায় আল্লাহর আইন চলে না সেখানে একজন মুসলিম উকিল বা বিচারক হবেন না, আল্লাহ তাকে কোন না কোন একটা রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। আমি এমন ভাইয়ের কথা জানি যিনি ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টারি পড়ে দেশে এসে ইসলাম বোঝার পরে সেই সার্টিফিকেট আলমারিতে তুলে আইন ব্যবসায় ইস্তফা দিয়েছেন – তিনি তো না খেয়ে মরে যাচ্ছেন না। হয়ত তিনি মাসে লাখ টাকা কামাই করছেন না, কিন্তু তিনি তো আখিরাত কামাই করলেন। কোন মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র মানুষকে শির্ক করতে বাধ্য করে এমন অবস্থা খুব কমই হয়। যদি আমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজ ইসলাম অনুযায়ী চলে সেটা আমাদের সৌভাগ্য, কারণ সেখানে ফিতনা কম থাকবে বলে আমরা সহজে ইসলাম পালন করতে পারব। তারপরেও রাষ্ট্র কিন্তু আমাদের হয়ে ইসলাম পালন করে দেবে না; আমাদের নিজেদের জীবনে নিজেদেরকেই ইসলাম আনতে হবে। আবার রাষ্ট্র যদি ইসলাম মোতাবেক না চলে, কিন্তু আমি যদি নিজের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে যথাসাধ্য তাওহিদ বাস্তবায়ন করি সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট। রাষ্ট্রকে ইসলামসম্মত ভাবে চালানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রপ্রধানের, আমার নয়। আমার কর্তব্য তাকে ভাল কাজ সাহায্য করা, তার ইসলাম বিরোধী নয় এমন সকল আদেশ মানা এবং ইসলাম বিরোধী আদেশ অমান্য করা। যদি রাষ্ট্র অনৈসলামিক আদেশ মানতে এমনভাবে বাধ্য করে যে সেটা না করলে মৃত্যু অনিবার্য তাহলে আল্লাহ সেক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড় দিয়েছেন, কারণ তিনি কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না।৩ ইবনে আব্বাসের সূত্রে রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ মুসলিম উম্মাহর ভুল করা, ভুলে যাওয়া এবং বাধ্য হয়ে করা অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। ৪

তাওহিদ-আল-উলুহিয়াত একজন মানুষ কত নিখুঁত ভাবে পালন করতে পারল তার উপর নির্ভর করবে আখিরাতে তার পুরষ্কার। ধরা যাক রাষ্ট্র আইন করল: ছেলে ও মেয়েকে সমান সম্পত্তি দিতে হবে। একজন বাবা দিলেন না, তিনি তার সন্তানদের বুঝিয়ে বললেন: ইসলামের বিধানানুযায়ী ছেলে, মেয়ের দ্বিগুণ পাবে। এখানে রাষ্ট্র কি করবে? বাসায় এসে খোঁজ নিয়ে যাবে কাকে কতটুকু দেয়া হল? না, এতটা তদারকি করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মানার জন্য সেই বাবার সদিচ্ছাই যথেষ্ট। ধরি, ঐ বাবার এক মেয়ে ইসলাম মানে না বিধায় আদালতে গিয়ে মামলা করে, সমান সম্পত্তি জিতে নিল। এখানে তাওহিদ-আল-উলুহিয়াতকে খন্ডন করল মেয়ে, বাবা নয়। এখানে রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা আল্লাহর আইনের বিপক্ষে আইন করে কুফরি করলেন, বিচারক সেই আইন দিয়ে বিচার করে কুফরি করলেন এবং মেয়ে আল্লাহর আইনের বদলে মানুষের আইনের বিচার কামনা করে কুফরি করল। অথচ পিতা তাওহিদ-আল-উলুহিয়াত রক্ষা করলেন কারণ তিনি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে রাষ্ট্রের আইন মেনে ভাগ করেননি। আবার, ধরা যাক কোন দেশে মেয়েরা অর্ধেক সম্পত্তি পাবে এ ইসলামী আইনটাই সরকারী আইন। কিন্তু কোন মেয়ে যদি সেই ইসলামী আইনটা ঘৃণা করে – আল্লাহকে অসমবন্টনকারী মনে করে, তাহলে সে অর্ধেক সম্পত্তি পেয়েও কুফর আকবার করল। অপরদিকে আগের প্রেক্ষাপটে বাবা তার নিজের অর্জিত সম্পদ মেয়েকে সমান ভাগ দিতে বাধ্য হয়েও তাওহিদ অক্ষুন্ন রাখলেন।

আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, হয় ইহকালে নয়ত পরকালে; এপারে চোরের হাত কাটা গেলে ওপারে সে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বেঁচে যেত। কিন্তু আমাদের রীতিতে শিক্ষিত চোরকে প্রমোশন দেয়া হয় যেন সে আরো বড় চুরি করতে পারে। ছিঁচকে চোরকে জেলে রেখে সৎ মানুষদের করের টাকায় থাকা-খাওয়া সহ ঘাঁঘু অপরাধীদের কাছ থেকে ট্রেনিং নেয়ার বন্দোবস্ত করে দেয়া হয়। আল্লাহর আইন থাকলে হয়ত এরা শুধরে যেত; অথচ ব্রিটিশদের থেকে নকল করে তৈরী করা আইনব্যবস্থা অপরাধীদের ছোট শয়তান থেকে বড় শয়তান বানায়! আল্লাহর আইনের হাত আসলেই লম্বা – সেটা পৃথিবী ছেড়ে কবর, কবর ছেড়ে বিচার দিবস পর্যন্ত পৌছবে। তা শুধু সাধারণ অপরাধীদের বিচার করবে না, আমারও বিচার করবে। বাংলাদেশের সরকার আমাদের মসজিদে যেতে বাধা দিচ্ছে না, কিন্তু আমরা তাও কেন আযান শোনা সত্ত্বেও বাসায় সলাত পড়ছি? যে মহান আল্লাহ যিনাকারীকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার আদেশ দিয়েছেন, সেই তিনিই তো পুরুষদের জামাতে সলাত পড়তে হুকুম করেছেন ৫আমাদের প্যান্টের ঝুল কেন গোড়ালির নিচে? কেন আমাদের দাড়ি চেঁছে পশ্চিমা সংজ্ঞায় ধোপ-দুরস্থ হতে হবে? কেন সুদী ব্যাঙ্কে আমার টাকা থাকবে?

দেশে আল্লাহর আইন আনার পূর্বশর্ত নিজেদের জীবনে তাওহিদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। সমাজের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যতক্ষণ না তাওহিদ না বুঝছে, না মানছে ততক্ষণ দেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা হবে না। “আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই” – স্লোগান দেয়া দলগুলোকে মসনদের কোণায় গিয়ে বসা জন্য আল্লাহর রসুলকে উপেক্ষা করে নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে। এরপরের পাঁচ বছরে পদে পদে আল্লাহর আইন অপমানিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাওহিদ ভূলুন্ঠিত হতে দেখেছি শহীদ মিনার নামক কায়াহীন মূর্তিতে ফুলেল নৈর্বেদ্য অর্পণে। ইসলাম প্রচারকারী কুয়েতী এনজিও বন্ধ হয়েছে, অথচ একই সময়ে খ্রীষ্টধর্ম প্রচারকারীর ছদ্মবেশের শত এনজিও দেশ ভাঙার ষড়যন্ত্র করার অনুমতি পেয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাওহিদের পক্ষে কথা বলার অপরাধে বিনা বিচারে বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন, আর এদিকে মুক্তমনা-সচলেরা ইসলামকে অপমান করার ফ্রি লাইসেন্স পেয়েছে।

আমাদের সমাজে যারা প্রথম থেকেই তাওহিদের মূল অংশগুলোর বদলে আল্লাহর আইন নিয়ে মেতে আছেন তারা আসলে ভেবে দেখছেন না যে, আল্লাহর আইন অনেক গুরু দায়িত্ব, অনেক শক্তিশালী এক অস্ত্র। এ অস্ত্র আল্লাহ রাম-শাম-যদু-মধুর হাতে তুলে দেবেন না, আমাদের নিরাপত্তার জন্যই দেবেন না। আমাদের দেশের সন্ত্রাসীরা পাঁচশ টাকা দিলে মানুষ খুন করে দেয়। তখন আর কষ্ট করে খুন করা লাগবে না, একটা বাজারের মেয়ে আর চারজন মিথ্যা সাক্ষী – সবাইকে একশ টাকা করে দিয়ে কাজীর কাছে নিয়ে গেলেই খুব সৎ একজন মানুষেরও মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা করে ফেলা যাবে। সম্প্রতি সৌদি আরবে চার বছর ধরে বিচার চলার পরে দেয়া মৃত্যুদন্ডের আদেশে এ দেশের ভাল ভাল মুসলিমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে আমাদের বুঝে যাওয়া উচিত তাওহিদের শীর্ষ নয়, তাওহিদের মূল থেকে কাজ শুরু করতে হবে। আল্লাহ আল-হাকিম, তিনি সর্ব-বিজ্ঞ, তিনি আল-আদিল, তিনি সর্বাধিক ন্যায়বিচারক, তাওহিদ-আল-আসমা-ওয়াস-সিফাতের এই প্রাথমিক জিনিসগুলো যারা জানে না, তাদের মাঝে ইসলামী আইন কায়িম করার স্বপ্নটা খুবই উচ্চাভিলাসী। যে জাতি মানুষকে পিটিয়ে মারাকে ন্যায়বিচার ভাবে, যে দেশে বিচারককে টাকা দিয়ে কিনে ফেলা যায়, পঞ্চাশ টাকাতে আদালতের সামনে সাক্ষী ভাড়া পাওয়া যায়, পুলিশকে আলু-পটলের মত বেচা-কেনা করা যায় – সে দেশে ইসলামি আইন দিয়ে নষ্টেরা সুবিধে নিত, সৎ মানুষেরা আরো বেশী অত্যাচারিত হত। যে দেশের মানুষ পীরের তাবিয নিয়ে ডাকাতি করতে যায়, কবর ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে, মাটির একটা মূর্তিকে মা ডেকে হাতির পিঠে কল্পনা করে ভাল ফসলের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়, সংবিধানে “আল্লাহর উপর ভরসা” – কথাটি থাকায় লজ্জা পায়; সে দেশে আল্লাহর বিধান আসবে কিভাবে? এ দেশের বিশিষ্ট ইসলামী-কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফতোয়া দেন: ইসলামে কোন শাস্তির বিধানই নেই, এটা বনি ইসরাইলদের ষড়যন্ত্র – এমন ইসলামী আন্দোলনের হাত থেকে আল্লাহ আমাদের হিফাজাত করুন।

আমাদের মূল সমস্যা হল আমরা মানুষকে ইসলাম মানাতে উন্মুখ, নিজেরা মানতে রাজী নই। আমরা কেবলই ভুলে যাই যে, আল্লাহর সামনে আমার কাজের জন্য আমাকে জবাবদিহী করতে হবে, অন্যের কাজের জন্য না। অন্যেরা কী করেছিল সে দোহাই দিয়ে সেদিন মুক্তি পাওয়া যাবে না। আমি আল্লাহর আইন চাই – সবার আগে সে আইনের সামনে হাটু গেঁড়ে বসব আমি নিজে, আমার পরিবার, তারপর আমার অধীনের যারা আছে তাদের সবাই। যারা আল্লাহর আইনের বিরোধীতা করছে তাদের আগে বোঝাব: আল্লাহ কে? তাওহিদ কী? লা ইলাহা ইল্লালাহ বলে মুসলিম হবার মানে কী? হতে পারে আমি একা, কিন্তু আল্লাহ তো দেখবেন আমি কতটা চেষ্টা করেছিলাম এবং কিভাবে করেছিলাম। বৃষ্টির প্রথম ছোট্ট ফোঁটাটা যখন পানির বুকে আঁছড়ে পড়ে তখন সে জায়গাটাকে কেন্দ্র করে ছোট্ট একটা ঢেউ ওঠে। সেই ঢেউটা তার চারপাশে খুব মৃদু আলোড়ন তৈরী করে। যখন এমন হাজারটা বৃষ্টিকণা নেমে আসে আকাশ থেকে তখন রিমঝিম শব্দের জন্ম হয় পানির কম্পনে। যখন বর্ষণ চলতেই থাকে তখন পুকুরের পানি প্লাবিত হয়, চারপাশের বাঁধাটা ডিঙ্গিয়ে যায়। আল্লাহ যেন আমাদের এই বৃষ্টিকণাদের দলে একটি বিন্দু হবার সুযোগ দেন। আমিন।

ফোর্ট ওয়েইন, ১৮ যুল-ক্বাদা, ১৪৩২ হিজরি

*****************************

১ সুরা ইউসুফ, ১২:১০৬

২ সহীহ বুখারি – ৭২৫৭, সহীহ মুসলিম – ১৮৪০

৩ সুরা আল-বাকারা, ২:২৮৬

৪ ইবনে মাজাহ, বায়হাকি, ইমাম নববীর ৪০ হাদিস

http://www.islamqa.com/en/ref/72398

Advertisements
No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: