Skip to content

অপেক্ষার প্রহর : শিহান মির্জা

সেপ্টেম্বর 7, 2011


জৌলুস হারানো বাগদাদের পশ্চিমে আবু গ্রেইবের এক অন্ধকার সেল।
বুকফাটানো মুহুর্মূহ আর্তচিৎকার ভেসে আসে ভেতর থেকে;
শ্বেত ইয়াঙ্কি কুকুরদের একের পর এক পাশবিক উল্লাস আর

আমার এক দুর্ভাগা বোন ফাতেমার জরায়ু ভরে ওঠে অবৈধ বীজে।
ঘড়ির কাঁটা থেমে যাওয়া সে অসহনীয় নির্দয় মুহূর্তগুলোতে,
তখনো করে যাচ্ছে প্যারালাইসড আক্রান্ত জাতির কিছু একটা করার প্রতীক্ষা।

ব্যর্থ তবুও অক্লান্ত প্রতিরোধ আর আঁধারে ঝিলিক দিয়ে উঠা অবিরত অশ্রু
যেন আমার সেই হতভাগা জাতিরই প্রতিনিধিত্ব করে।
সিনাপসের বন্ধন একটার পর একটা ছিন্ন হতে হতে নগণ্য কিছু বাকি রয়ে যায়

আর তাই হারামাইন শরীফের ভুয়া খাদিমদের মরুভূমিতে ফেলে দেয়া ভুনা উটের রান
অভিশাপ দিতে থাকে এসব ভোগ বিলাসে আর আরবিয়ানার মিথ্যা গর্বে টাল হয়ে থাকা কূপমন্ডুকদের।
ওদিকে আফ্রিকার শিংয়ে বিলালের উত্তরসূরীরা মায়ের স্তনে খুঁজে যায় জীবনের একফোঁটা রস।
তকদীরের ফয়সালা জানা হয়ে যায়, দুনিয়ার নেতৃত্ব থেকে জান্নাতের গুলাম হয়ে থাকাই যেন বেহতার।

আর আধুনিক ফিরাউনরা ড্রেজার দিয়ে গাজার লাইফলাইন টানেলগুলোর শেষ অস্তিত্ব জানান দিয়ে দেয়;
কারণ মিটিয়ে দিতে হবে সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়া উম্মে নিদালের মত আল্লাহর পথের সন্ত্রাসীদের
গর্ভকে যারা মুজাহিদ বানানোর লিজ দিয়ে রেখেছে উম্মাহর সম্মুখভাগের পরিখা ধরে রাখতে।

আর রিম রিয়াশীর মত আল্লাহর সিংহীদেরকেও যারা শার্পনেল হয়ে বানর আর শূয়রদের বংশধরদের আত্মায় বিঁধে যেতে শিখে গেছে।
ঐদিকে, হাশেমী বংশের কুলাঙ্গারটাও বেডরুমে সুন্দরী নাসারা বিবি নিয়ে ফূর্তি আর হুইস্কি পান করতে ব্যস্ত;
আর আবদুল্লাহ আর কাদিরভদের গাদ্দারীতে ককেশাস আর কাশ্মীরের শ্বেত উপত্যকাগুলো হয়ে উঠেছে লোহিত।
সায়্যিদ আবু বকরের বংশধরদের রক্তে সেলেবেস সাগর যেন আজ হোলির রাঙ্গা পানি
আর সুলতান মাহমুদ গজনভীর বংশধরেরাও আজ অসি ছেড়ে রুটি টোকাতে মত্ত।

২০০৪ ডিসেম্বরের কোন এক বরকতময় দুপুর
আবু গ্রেইবের প্রাঙ্গন রকেট ব্যারেজের মুহুর্মূহু বিস্ফোরণে প্রকম্পিত।
আল্লাহর সেনাদের গর্জনে গর্তে লুকায় কীটেরা নরকের,
বদ্ধ সেলের মেঝেতে বসে ফাতিমা কান পেতে শোনে মর্টারের আওয়াজ।
মুখে প্রশান্তির এক হাসি, কোথায় যেন উবে গেল এতদিনের অপমান-লাঞ্ছনার কৃষ্ণ শৃঙ্খল ভার।
“এসব জানোয়ারদের সাথে আমাদেরও উড়িয়ে দাও” বোনের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ওড়নার এক টুকরায় রক্তে লেখা
এ আহবানের জবাব দেয়ার জন্য অনেক ভাই বেঁচে ছিল তাহলে;
একটা মর্টার এসে পড়ল! ব্যস! এটাই চাওয়া ছিল, এরপর হাসতে হাসতে ইল্লীয়্যিনের জগতে চলে যাওয়া;
এর কিছু পর হয়তোবা জান্নাতের সবুজ পাখি হয়ে উড়ে চলে যাওয়া আল্লাহর আরশের নিচে।

এ কি মু’যিজা! মুমূর্ষ শাহরগের ক্ষীণপ্রায় স্পন্দনের ডিপ ডিপ আওয়াজ ধীরে ধীরে প্রবলতর হয়ে চলা।
আমরা তো সেই জাতি যারা ফুসফুস থেকে প্রাণবায়ু নেয় না, এদের অক্সিজেন আসে
হাশরের ময়দানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা শহীদদের ক্ষতস্থানের রক্তের মিশকের চেয়েও তীব্র সুগন্ধী থেকে।
অন্ধকার দুর্গম বন্ধুর পথের পাথেয় যারা নেয় ক্বুর’আনের আবে কাউছারে প্রতিফলিত আলো থেকে
এ আলোর বিচ্ছুরণ ছিল উহুদের ময়দানে হক্বের নিশানধারী মুস’আবের কাটা হাতের ফিনকি দিয়ে ছিটকে পড়া রক্তে
কিংবা কায়রোর পিচঢালা রাজপথে নিথর পড়ে থাকা ইমাম বান্নার ছেদ হয়ে যাওয়া হার্ট নির্গত রাঙ্গা খুনে;
আর ফাঁসির মঞ্চে জীবনের গান গেয়ে যাওয়া সাইয়েদ কুতুবের ভূবনভরা হাস্যোজ্জ্বল বদনে।
এ আলোর তেজ ছিল সাইয়েদ মওদুদীর বিমানের ককপিটে আযান দেয়ার দৃপ্ত আহবানে,
আর কারিমভের চ্যালাদের টর্চারে শাহাদাতের শিরিন শরাব পান করা তাশখন্দের ফরহাদ উসমানভের আখেরী হাসিতে।

যামানার মুকাব্বিররা আবারো দাঁড়িয়ে গেছে সারি বেঁধে,
হিন্দুকুশের শার্দুলদের একে ৪৭ আর আরপিজিই যেন বি ৫২ আর আব্রাহাম ট্যাংক নিশ্চল করে দিচ্ছে ঈমানের শক্তিতে।
কায়রো, তিউনিস আর সানার রাজপথের তাকবীর ধ্বনি জালেমদের প্রাসাদে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।
বসফোরাস প্রণালীর তীর হতে উছমানীয়াদের নিষ্প্রভ হয়ে যাওয়া লাইটহাইজের ক্ষীণ আলোকরেখা ফির বিচ্ছুরণ শুরু করেছে;
আর সিনাপসের ছেঁড়া বন্ধনগুলোও আস্তে আস্তে জোড়া লাগতে থাকে আর এই অথর্বের অপেক্ষার প্রহর গুণা,
যেদিন ককেশাস আর কাশ্মীরের লালরাঙ্গা গোধুলীর আকাশ ভেদ করে উজ্জ্বল হিলালের আগমন ঘটবে;
তেলআবিবের পোর্টগুলো কালিমাখচিত পতাকা উড়তে থাকা ডেস্ট্রয়েট আর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে গিজগিজ করবে;
আর মিন্দানাওয়ের উপকূলে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা নারকেল গাছগুলোও আসমানী হাওয়ার জোরে
শুকরানা সিজদা আদায় করা মুজাহিদদের সাথে নত হয়ে যাবে।

লিখেছেনঃ শিহান মির্জা

পাদটীকাঃ

১) ফাতিমাঃ কুখ্যাত আবু গ্রেইব কারাগারের এক মহিলা বন্দী, যিনি ছিলেন আবু গ্রেইব এলাকার এক নামকরা মুজাহিদ নেতার বোন। আমেরিকান দখলদার সৈন্যরা তার ভাইকে খুঁজতে এসে না পেয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার হাতে লেখা চিঠি কোনভাবে আবু গ্রেইবের বাইরে আসে। সেই চিঠিতে কারাগারে মুসলিম নারীদের উপর আমেরিকান সৈন্যদের অচিন্তনীয় বর্বর রকমের নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠে। সেই চিঠিতে মুজাহিদদের দরকার হলে মুসলিম নারী বন্দীদের হত্যা করে হলেও কারাগারের উপর আক্রমণ চালানোর আকুতি জানানো হয়। এ চিঠির জবাবে প্রায় ১০০ জন মুজাহিদ ২০০৪ এর ডিসেম্বরে আবু গ্রেইবে হামলা চালায়। পরে এক সূত্রে জানা যায়, মুজাহিদদের মর্টার হামলায় ফাতেমাসহ আরো কয়েকজন বন্দী শাহাদাত বরণ করেন। ফাতিমার চিঠি পড়তে এই লিঙ্কে যানঃ http://www.youtube.com/watch?v=-6xmwBxseDE

২) সিনাপসঃ দুটি স্নায়ুকোষের মধ্যে অবস্থিত একটা জায়গা যা এক স্নায়ুকোষ থেকে স্নায়বিক সংবেদনা অন্য স্নায়ু কোষে বহন করে।

৩) হারামাইন শরীফের ভুয়া খাদিমঃ সৌদি বাদশা যারা নিজেদেরকে “খাদিমুল হারামাইন শারীফাইন” বলে দাবী করে

৪) আফ্রিকার শিং : Horn of Africa তথা সোমালিয়া

৫) জান্নাতের গুলামঃ “গুলাম” আভিধানিক অর্থ শিশুবালক। জান্নাতে এমন অনেক শিশুবালক থাকবে যারা জান্নাতীদের বিভিন্ন জিনিস পরিবেশন করবে এবং আনন্দ করে বেড়াবে। যেসব শিশুরা জ্ঞানপ্রাপ্তির আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় তারা জান্নাতে গুলাম হিসেবে স্থান পাবে।

৬) আধুনিক ফিরাউনঃ আধুনিক মিশরের শাসকরা

৭) উম্মে নিদালঃ গাজার এক রত্নগর্ভা মা যার ১০ সন্তানের মধ্যে ৩ জন ইতোমধ্যে শহীদ হয়েছে এবং তিনি তার বাকি সন্তানদেরও শহীদ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। আরো জানতে যানঃ http://www.youtube.com/watch?v=yMNy8e5h7v0৮)

৮)রীম রিয়াশিঃ ফিলিস্তিনের মহিলা শহীদী অপারেশন চালনাকারীদের(পাশ্চাত্যের ভাষায়, Suicide operation) মধ্যে অন্যতম। আরো জানতেঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Reem_Riyashi

৯) হাশেমী বংশের কুলাঙ্গার এবং তার নাসারা বউঃ জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ[যিনি নিজ বংশকে হাশেমী বংশ বলে দাবী করেন] এবং তার স্ত্রী কুইন রাণিয়া

১০) আব্দুল্লাহঃ ভারত দখলকৃত কাশ্মীরের তিন বিশ্বাসঘাতক শেখ আব্দুল্লাহ, তার ছেলে ফারুক আবদুল্লাহ এবং নাতি ওমর আব্দুল্লাহ; তিনজনই কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

১১) কাদিরভঃ আহমেদ কাদিরভ এবং তার ছেলে রমযান কাদিরভ। আহমেদ কাদিরভ প্রথম চেচেন যুদ্ধে মুজাহিদদের দলে থাকেন এবং কিছুদিনের জন্য স্বাধীন চেচেন রিপাবলিক অফ ইশকেরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি ছিলেন; কিন্তু দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধে রাশিয়ানদের সাথে যোগ দেন। পরে রাশিয়া দখলকৃত চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। তিনি নিহত হওয়ার পর তিন বছর পর তার ছেলে রমযান কাদিরভকে চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট বানানো হয়।

১২) সায়্যিদ আবু বকরঃ ১৫ শতকে মিন্দানাওয়ের শাসনে থাকা সুলু ইসলামী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা শাইখ সায়্যিদ আবু বকর আবিরিন

১৩) সেলেবেস সাগরঃ মিন্দানাও যে সাগরের তীরে অবস্থিত

Advertisements
2 টি মন্তব্য leave one →
  1. সুরেশ দত্ত permalink
    অক্টোবর 28, 2013 1:43 পুর্বাহ্ন

    ফালতু, জঙ্গিবাদী কবিতা। লেখককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত।

    • taslima permalink
      নভেম্বর 17, 2013 6:09 অপরাহ্ন

      osadharon kobita gulo bojar jonno akta sundor hridoy lage,ja hoyto apnar nei… tai jongibadi kobita bole e nijer okkhomota k dakcen…. jottosob..!@সুরেশ দত্ত

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: