Skip to content

সফল ক্যারিয়ারিস্ট নারী !

সেপ্টেম্বর 3, 2011

লিখেছেনঃ রেইন স্পট

নারী শিক্ষা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহনের ফলে দেশ, জাতি এবং নারী সমাজের উন্নতি হইলেও পুরুষ সমাজ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হইতেছে। নারী তো পাষাণী। স্বামী বিরহের চেয়ে অর্থোপার্জনপূর্বক আত্মপ্রসাদলাভই তাহার জন্য পছন্দসই। অথচ এই প্রিয়া বিরহ পুরুষকে শয়নে-স্বপনে-অফিসে-মিটিং এ একদন্ড শান্তিতে থাকিতে দেয় কিনা সন্দেহ। আবার যদি এমন হয়ত যে অর্থোপার্জন এমন স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ পুরুষের জন্য ধর্মীয় ও নীতিগতভাবে বাধ্যতামূলক নহে, তবে হয়ত অধিকাংশ পুরুষই স্ত্রীর কাছাকাছি থাকিত ।

লাইনগুলো কোট করেছি একটি অনলাইন ধারাবাহিক উপন্যাস থেকে। সমাজে নারীর বর্তমান অবস্থান নিয়ে চিন্তা করছিলাম। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। পূর্বে নারীদের শিক্ষা ছিলনা,আয়ের স্কোপ ছিলনা কেবল ঘরের কাজ আর সন্তান পালনেই নারীরা আবদ্ধ ছিল বলে পুরুষের মত গুরুত্ব সমাজ দিতনা। তাই অনেক এনালাইসিস করে নারীরা চিন্তা করল শিক্ষিত হতে হবে, বাইরে জব করতে হবে, উপার্জন করতে হবে… তবেই না নারীর মুক্তি। কিন্তু কেবল এই চক্রেই নারীরা থেমে থাকেনি, পুরুষের থেকে কিসে কম তারা? পুরুষরা যে কাজ করে সেখানেও নারীদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তারা এমন কোন ক্ষেত্র নাই যেখানে এখন বিচরন করছেনা। চিকিৎসক,ইঞ্জিনিয়ার,জজ,ব্যারিষ্টার-ই কেবল নয়; আর্মি,পুলিশ,পাইলট সবখানেই নারীর আজ সদর্পে পদার্পণ। কিন্তু নারী কি আজ সত্যিই স্বাধীন?

নারীরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছে। এজন্য কীসের স্বাধীনতা কিংবা কীসের সাথে তাল মিলিয়ে আসলে তারা নিজেদের কিভাবে সম্মানিত করতে চাইছে সেটা তারা নিজেও বুঝতে পারছেনা। নারী-পুরুষের অধিকার কখনও এক অপরের সমানে নয়, বরং স্বাতন্ত্রে। পুরুষের মত পোশাক পরলেই, পুরুষের সাথে কাজ করলেই নারী তার প্রাপ্য অধিকার কখনও পাবেনা। নারী সমাজের উন্নতির জন্য যদি নারীরা তাদের আসল অধিকার কোথায় এবং সেটা কিভাবে পাওয়া সম্ভব সেটা যদি স্টাডি করত তাহলে বুঝতে পারত বর্তমান পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য দ্বন্দ্ব,হতাশা, সন্তানের অন্ধকার ভবিষ্যতের জন্য নারীর এই তথাকথিত মডার্নাইজেশান দায়ী।

পাশ্চাত্য উন্নত বিশ্বে নারীদের সাথে মুসলিম নারীরা যদি তাদের তুলনা করতে যায় তাহলে প্রথমেই যে ভুলটি হবে সেটা হল আইডিওলোজিতে। পাশ্চাত্য নারীরা প্রচন্ড পরিমাণ বস্তুবাদি জীবন যাপনে বিশ্বাসী। তাদের কাছে যেহেতু সৃষ্টিকর্তার কোন ধারণা নাই সেহেতু তাদের উন্নতির অন্যতম ইউনিট হচ্ছে পুরুষ। পুরুষকে অনুসরন করাই তাদের উন্নতি এবং আধুনিকতার ইউনিট। এজন্য তারা পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে। এবং এতে করে তারা নিজেদের খুব সম্মানিত মনে করছে। তারা মনে করছে নারীরা এখন আর সন্তান উৎপাদনকারী নয়, তাই তারা সন্তানের দায় দায়িত্ব নেয়াকে নারীত্বের অবমাননা মনে করছে। ফলস্বরূপ মা-সন্তানের সম্পর্ক খুব শিথিল হয়ে পড়ছে, কেউ কারো কাছে দায়বদ্ধ না। সন্তানেরা এক গভীর সাইকোলজিক্যাল ট্রমাতে ভুগছে।

আমাদের দেশে কি ঘটছে এখন? খুব খুউব নিরাপদ সম্পর্কও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। সন্তানের হাতে মা কিংবা মায়ের হাতেই সন্তান খুন। পরকীয়ার জন্য একজন মা তখন কেবলই এক ক্রেজি নারী হয়ে উঠছে, সন্তানের কাছে তার ‘মা’ আইডেন্টিটিও তখন কেবল কর্পুরের মত বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অনেক আগেই প্রশ্নবিদ্ধ, এখন সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্কও প্রশ্নবিদ্ধ। হুম, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা এখন অনেক স্বাধীন,মুক্ত। তারা এখন আর কোন কিছুর পরোয়া করছেনা। নিজের অধিকার আদায়ে কোন সম্পর্ককেও আর গুরুত্ব দিচ্ছেনা। যদি পাশ্চাত্যকে আদর্শ ধরা হয় তাহলে নারীর এই স্বাধীনতা, এই মুক্তি, এই উন্নতি, এই আধুনিকতা সবকিছু নারীর উন্নতির স্পষ্ট সাইন।

কিন্তু ইসলামে নারীকে সর্বোচ্চ যে অধিকার দিয়েছে সেটার বিচারে নারীরা আজ কতটা স্বাধীন,সম্মানিত ও আধুনিক সেটা বিচার করি। নারী যদি নিজেদের অধিকার ও সম্মান আদায় করতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে নারীদের আদর্শ ধরতে হবে সেই সৃষ্টিকর্তাকে যিনি নারীকে সৃষ্টি করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর সেই দুইটি হাদীস যেখানে বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। আর সেই ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে যখন নবীজী(সাঃ) পরপর তিনবার মায়ের সেবার পর বাবার সেবার কথা বললেন তখন কিভাবে বলব যে ইসলাম নারীর সম্মান দেয়নি, অধিকার দেয়নি?

বর্তমান নারীরা অনেক বেশি সম্মান অর্জন করতে গিয়ে তাদের আসল সম্মানের জায়গাতে নিজেদের হিউমিলিয়েট করছে। তারা সুপার উইম্যান হতে চায়। একজন সফল ক্যারিয়ারিস্টিক নারী, সফল মা, সফল স্ত্রী, সফল হোমমেকার….সবকিছুতেই সফলতা অর্জন করতে গিয়ে নিজেদের উপর নিজেরাই বার্ডেন বয়ে আনছে। ক্যারিয়ারিস্ট হওয়া মানেই পুরুষের মত হওয়া নয়, ক্যারিয়ারিস্ট হওয়া মানেই পুরুষকে সফল ক্যারিয়ারের ইউনিট মনে করা নয়। ক্যারিয়ারিস্ট হওয়া মানেই সন্তান জন্ম দেয়া ও পালন করা নারীত্বের অবমাননা নয়।

একজন নারী সফল ক্যারিয়ারিস্ট, সফল মা, সফল স্ত্রী, সফল হোমমেকার হতে পারে যদি এই সফলতার ইউনিট মৃত্যুর পরের জীবনকে কেন্দ্র করে হয়। একজন নারী যদি তার পায়ের নিচে জান্নাতকে বাদ দিয়ে বস্তুবাদি সভ্যতা আর ক্যারিয়ার নিয়ে পড়ে থাকে তাহলে সে ক্যারিয়ারিস্ট হতে পারলেও একজন সফল মা,স্ত্রী ও হোমমেকার হতে পারবেনা কখনও। আর যে সন্তান তার জান্নাত খুজে পাবে তার মায়ের নিচে সেই মা যদি সন্তান পালন করাকে নারীত্বের অবমাননা মনে করে তাহলে নারীর উন্নতি কেবল এই স্বপ্নময় জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, মৃত্যু পরবর্তী অসীম বাস্তবতার জীবনে সবকিছু হবে শূন্য।

তাই পাশ্চাত্যের মত উন্নতি করতে গিয়ে মুসলিম নারীরা যদি পুরুষের মত সমান হওয়াকে আদর্শ ধরে তাহলে কাংখিত উন্নতি কখনই আসবেনা। সমাজে এক গভীর ক্ষত তৈরি হবে, আজকের সন্তানেরা বড় হবে নিরাপদহীন পৃথিবীতে, তারাই ভবিষ্যতে আরো গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়ে যাবে এই সমাজের বুকে। যেখানে সন্তানেরা তাদের মায়ের মাঝে খুজে পাবেনা তাদের জান্নাত সেখানে তারা কি শান্তি আনবে ভবিষ্যত সমাজের জন্য?

একজন শিক্ষিত নারী যদি বাইরে জব নাও করে তার সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ জব করতে হয় ঘরের ভিতরে। একজন নারী ঘরে বসে বিশ্ব পরি্চালনায় অংশগহণ করে। এই বিশ্ব পরিচালনার কাজ নিশ্চয় এত সহজ না যতটা একজন নারী ভাবে! আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামী ভবিষ্যতের দায়ভার একজন নারীকে নিতে হয়, কোন পুরুষকে নয়। তাদের পারিবারিক আবহে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া, মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি এসব কাজের জন্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান খোলা হয় আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান হবে সেটা। একটা শিশুর মনে মায়ের প্রভাব কিভাবে বিস্তার করে সেটা নিয়ে গবেষণা করলে সেই গবেষণার পেপার এতখানি গুরুত্ব পাবে পুরা বিশ্বে যে সবাই একথা একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে যে এক মায়ের জন্যই পুরা পৃথিবী টিকে আছে। একথা আমি হলফ করে বলতে পারি কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক একজন সন্তানের জন্য নারীকে জান্নাতের পথকে সুগম করে দেবার কাজ পৃথিবীর হাজার শ্রেষ্ঠ কাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

সবকিছুর শেষে প্রতিটি নারীকে আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়, নিশ্চিত জান্নাতের মত উন্নতির পথ ছেড়ে কেন আপনারা একেবারে মূল্যহীন আধুনিক হবার প্রতিযোগীতায় নেমেছেন? আমাকে যদি অপশন দেয়া হয় তাহলে আমি সফল মা হয়ে, পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাতকে নিজের জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় ক্যারিয়ার হিসাবে বেছে নিব এবং সেভাবেই চেষ্টা করব। কারণ আমার ইউনিট ম্যাটেরিয়ালিস্টিক স্বপ্নীল পৃথিবী নয়, আমার ইউনিট অসীম বাস্তব জীবনে জান্নাত পাবার সার্থকতা। সেক্ষেত্রে একজন নারী হিসেবে এরচেয়ে সফল নিশ্চিত ক্যারিয়ার নারীরা আর কোথায় পাবে?

* * * * *
লেখক সম্পর্কেঃ

রেইনস্পট পেশায় একজন চিকিৎসক। বইপড়া তার প্রিয় কাজগুলোর একটি। পার্থিব ও পারলৌকিক জ্ঞানের সমন্বয়করনে এবং মানসিক চিন্তার স্ফুরণে সেই জ্ঞানের ভূমিকা সম্পর্কিত আলোচনা সাধারণত তার লেখনীতে ফুটে ওঠে।

Advertisements
One Comment leave one →
  1. ডিসেম্বর 29, 2012 2:15 অপরাহ্ন

    যাজাকাল্লা

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: