Skip to content

আসছে রোজায় নতুন রেসিপি

জুলাই 22, 2011

রোজার সময় ত সবাই একটু আধটু কুরআন তিলাওয়াত করেন, এইবার একটু অন্যভাবে পড়ি চলেন।

কুরআনটা কিন্তু আর কিছুনা, আল্লাহর আমাদের সাথে কথোপকথন। কুরআন পড়ার আগে খুব ভাব নিয়ে অজু করে ভয়ে ভয়ে খুলে সুন্দর করে তিলাওয়াত করে আবার কাপড় দিয়ে মোড়ায় শোকেসের উপর তুলে রাখার বদলে এই কাজটা করতে পারেন (যেটা আমি করি) – বেশ আরাম করে কোথাও বসি যাতে পড়তে গিয়ে পিঠ ব্যথা না করে। আউযুবিল্লাহি মিনাশ … এই দুআটা করে কুরআন খুলে অর্থ পড়া শুরু করি। আউযুবিল্লাহি দুআটা করা উচিৎ কারণ কুরআন থেকে যা শিখব তা যেন ঠিকমত বুঝি আর ইমপ্লিমেন্ট করতে পারি তার জন্যেও ত আল্লাহর সাহায্য লাগবে! এই দুআটায় আমরা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে আল্লাহর নামে শুরু করছি বলি। ত আশা করা যায় আল্লাহ তখন আমাদের পড়ায় আরো অনেক বেশি blessing দিবেন।

যে কোন একটা সূরা পড়া শুরুর আগে একটু দেখে নিলেন তার সম্পর্কে summary তে কী লেখা আছে। বড় সুরাগুলির জন্য এই অংশটা খুব সাহায্য করে। যেমন সূরা বাকারা এত বড়… কোত্থেকে কই চলে যাচ্ছে তাল রাখতে পারিনা। এই আদম (আ) এর কাহিনী বলল, তারপর কতক্ষণ বনি ইসরায়েল তারপর কী কী… সব মিলায় আমি ফুল কোন মেসেজ পাইনা। লাইন বাই লাইন পড়ি, কোথাও আল্লাহ বকা দিসে, কোথাও বলসে যাকাত দাও, কোথাও গল্প শুনাইসে… পড়তে পড়তে আমার হাই উঠতে থাকে। ট্র্যাকই রাখতে পারিনা, শিখব কী? ত আমার কাছে যে কুরআন টা আছে তার ইন্ট্রো টা আগে কখনও পড়া হয়নাই। সেদিন পড়ে দেখি এই সূরাটা বিভিন্ন প্যারায় ভাগ করা। প্রথম পর্বে তিন রকম human psyche নিয়ে কথা বলেছে। সেখানে আবার সেই রকম কিছু উদাহরণ। তার পরের অংশে আল্লাহ আদম (আ) কে সৃষ্টি, তার সামনে সবাই সিজদা করা -এই কাহিনী বলেছে, এর পরেই ৪৭ আয়াত ধরে বনি ইসরায়েল। তারপর ঈসা (আ), মুসা (আ)।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, it starts making sense when you take the organization of the sura as a continuation of the previous one. প্রথম সূরা হচ্ছে ফাতিহা। সেখানে সুন্দর করে আল্লাহর কাছে কীভাবে গাইডেন্স চাইতে হয় সেটা শেখানো হয়েছে। তুমি একটা বই পড়তে শুরু করলা গাইডেন্স পাওয়ার জন্য, সবার প্রথমে ত ঠিক এরকম কিছু থাকাই মানায়। তারপরের সূরাই বাকারা। সেখানে বলসে এই বইয়ে অস্পষ্ট কিছু নাই। কিন্তু এই সূরাটা শুরুই হইসে এমন তিনটা অক্ষর দিয়ে যার অর্থ কোন মানুষ কখনও বের করতে পারবেনা। হয়ত আল্লাহ চাইসে গাইড করার সাথে সাথে আমাদের লিমিটেশনটাও বুঝায় দিতে। তারপর উনি বলসে, কুরআনের শিক্ষা কে মানুষ তিনভাবে গ্রহণ করে। কেউ বিশ্বাস করে ও তা বোঝার চেষ্টা করে, কেউ যাই বলুক কানে তোলেনা, আবার কেউ কেউ যেটুকু পছন্দ সেটুকু নেয়, বাকিটুকু ফালায় দেয়। এরপর আদম (আ) এর সৃষ্টির কাহিনী বলসে আল্লাহ, কিন্তু পুরাটা বলে নাই। বলসে আমি পৃথিবীতে ‘খলিফা’ তৈরি করব। খলিফা শব্দটাই দুই রকমের অর্থ বহন করে। একটা মানে হচ্ছে যে ফলো করে, আরেকটা মানে যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে। তারপর আদম (আ) এর জ্ঞানের বহর দেখিয়ে ফেরেশতাদের অভিভূত করা, তাদের সম্মান আদায়, বেহেশতে থাকা – এসব বলেছেন। কিন্তু ইবলিশ যে সিজদা করলনা – এইটা নিয়ে হালকার উপর ঝাপসা বলে গেছেন। তারপর বেহেশত থেকে কীভাবে প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করে বিচ্যুত হল, সে কথা বলেছেন। এই প্যারার শেষ দুই লাইন হচ্ছে যারা আমার কথা শুনে, ফলো করে তাদের দুঃখ বা ভয় করার কোন কারণ নাই।

দেখেন, পুরাটাতেই একটা কনফ্লিকটিং নেচারের ছাপ। মানুষ বিশ্বাস করলে তার অন্তরে কী থাকে, অবিশ্বাস করলে কী হয়। খলিফা শব্দটায়, তারপর আদম (আ) এর ঘটনায়, আল্লাহ বলল তাকে শুরুতে আল্লাহ কত বড় করে তৈরি করসে, আর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে সে কই গেসে। এরপরে বনি ইসরায়েল এর কাহিনী ত আরো স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড, তাদের কী কী নিয়ামত দেয়া হইসিল আর ওরা কী করসে তার ডিটেইল বর্ণনা আছে।

আল্লাহ আসলে একটা মেইন থিম কে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন। সৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে আমাদের প্রতিজ্ঞাই ছিল আমরা তার দেয়া গাইডেন্স মেনে চলব, আর অন্য মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। সেটা ভঙ্গ করার কারণে আমরা তার অসন্তুষ্টির শিকার হই। তখন উনিই আবার বিভিন্ন পথ বলে দিয়েছেন এই থেকে ফিরে আসার। আমার কাছে ভাল লেগেছে এত বড় আপাতদৃষ্টিতে অসংলগ্ন সূরাটার এত চমৎকার coherence টা।

ত যেটা বলছিলাম, এরকম ইন্ট্রো পড়ে তারপর সূরাটা পড়া শুরু করলে বুঝতে আরো সহজ হয়। আরবিতে তিলাওয়াত করলে করেন, কিন্তু যখন শুধু বুঝার উদ্দেশ্যে পড়বেন তখন মোটামুটি একটা ধারাবাহিকতা রেখে পড়বেন, তাতে বুঝতে অনেক সুবিধা হয়।

কুরআনের কনটেক্সট বা flow of thought যেমন মজার, word by word অর্থগুলিও অনেক মজার। যেমন সূরা মু’মিনুন এ মু’মিনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়েছে ‘আল্লাযিনা হুম লিয যাকাতি ফা’ইলুন’
আল্লাযিনাহুম (যারা) লি (এর মধ্যে) যাকাতি (যাকাত) ফা’ইলুন (করা) – সোজা ভাষায় যারা রেগুলার যাকাত দেয়। কিন্তু এই ফা’ইলুন হচ্ছে করা এর আরবি ভার্সন। করা এর আরেকটা আরবি হচ্ছে ‘আমল। ফা’ল আর ‘আমল এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ফা’ল স্বতঃস্ফূর্ত, নিঃশ্বাস নেয়ার মত, এইটার জন্য কোন ইফোর্ট দিতে হয়না। আর ‘আমল হচ্ছে উদ্যোগ নিয়ে করা। যাকাত এর আরেকটা মানে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এটা ত আগেও বলেছি। তাহলে সব মিলায় কথাটা কী দাঁড়াল? যারা নিজেদের খারাপ স্বভাব কে ছেঁটে ফেলে সবসময় পরিশুদ্ধ করার চেষ্টাটাকেই স্বভাব বানিয়ে ফেলেছে তারাই মুমিন।

ত এসব মজার মজার কথাগুলি একটা বইয়েই পাওয়া গেলে খুব ভাল হত। দুঃখের বিষয়, প্রতি ওয়ার্ডের বিশদ ব্যাখ্যা করতে গেলে ছাপানো, বিলি করা – এসব কঠিন হয়ে যাবে। তাছাড়া তাফসির যারা করেন তারা একেকজন একেক অ্যাঙ্গেল থেকে গবেষণা করেন। তাই সব একজায়গায় পাওয়াও সহজ হয়না। আমার কাছে এই ভাষাগত ব্যাখ্যাটা খুব ভাল লেগেছে। নোমান আলি খান এই কাজটা খুব সুন্দর করেছেন। উনার এখন পর্যন্ত করা তাফসির bayyinah.com/podcast এ পাওয়া যাবে। তাফসির ইবন কাসিরও বেশ ডিটেইল। আরেকজনের তাফসির বেশ ভাল লাগল, www.quran-tafsir.org, word for word নিজে বুঝতে চাইলে এই লিংক টা তে যেতে পারেন। http://www.studyquran.co.uk/Quran_ArabicEnglish_WordforWord_Translation.htm

এসব দেখে ভয় পাওয়ার দরকার নাই। আমি জানি রোজার সময় সবারই একটু আধটু কুরআন পড়তে ভাল লাগে, তাই একটু নতুন এপ্রোচ এ পড়তে বললাম। আর রাসুলুল্লাহ (স) এর সময় খতমে তারাবির কোন কাহিনী ছিল না কিন্তু। যে টাইমটা কুরআন খতম করার জন্য বরাদ্দ রেখেছিলেন সেটা একটা সূরা বোঝার জন্য ব্যয় করে দেখতে পারেন, ঠকবেন না।

…………………………………….
— নূসরাত রহমান

Advertisements
No comments yet

আপনার মন্তব্য রেখে যান এখানে, জানিয়ে যান আপনার চিন্তা আর অনুভুতি

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: