Skip to content

কোথায় পাব তারে

ফেব্রুয়ারি 28, 2012

লিখেছেন : শরীফ আবু হায়াত অপু
dripto-uccharon
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম


আমি জীবনে যখন প্রথম ‘ক্রাশ খাই’, তখনও বাগধারাটার মানে জানতাম না। জানার কথাও না, কারণ বাগধারাটার মতই খাদ্যদ্রব্য হিসেবে ‘ক্রাশ’ বেশ আধুনিক। আজ থেকে পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে মানুষ ‘ক্রাশ’ খাওয়া তো দূরের কথা ক্রাশ খাওয়ার সুযোগও পেত না। আমরা ফিরিঙ্গিদের দেখাদেখি সিনেমা-নভেল-নাটকের বরাতে সভ্য-ভব্য হয়েছি, পাৎলুন পরে শিল্প-ঐতিহ্য চর্চায় নেমেছি। শেষমেশ ঘরের কোণে এক বাক্সে বাঈজীখানা, থিয়েটার আর সিনেমা হল বন্দী করে সভ্যতার সুঁইয়ের মাথায় আরাম করে বসেছি। নব্বইয়ের দশকে আকাশ থেকে সংষ্কৃতির বর্ষণ শুরু হবার পরে সেই সূচবৃষ্টি থেকে বাঁচে কার বাবার সাধ্য! তো রাস্তাঘাট থেকে বনেদি বৈঠকখানা, সকাল-সন্ধ্যা ‘এক লাড়কি কো দেখা তো এয়সা লাগা’ শুনে বড় হওয়া আমার জন্য যা অবধারিত ছিল, তাই হয়ে গেল। আমি ক্রাশ খেলাম। Read more…

তাই স্বপ্ন দেখবো বলে আমি দু’চোখ পেতেছি

অগাষ্ট 22, 2011

লিখেছেনঃ স্বপ্নচারী আব্দুল্লাহ



আমরা একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের একটা সময় অতিক্রম করছি এখন। সময়টা কঠিন যাচ্ছে। এমন কঠিন সময় হয়ত যুগে যুগেই নির্দিষ্ট বিরতি পর পর আসে। যুগের বিচার করলে আমাদের চলে না। আজ থেকে মাত্র ১০০ বছর আগে এই পৃথিবীতেই ঘটে গিয়েছিলো নারকীয় বিশ্বযুদ্ধ। হানাহানি-খাদ্যমন্দা-ক্ষমতা দখলের লড়াইতে ডুবে ছিলো সমগ্র বিশ্ব। অনেকেই অনেক অর্জন করেছে, তারপর বছর বিশ যেতে না যেতেই আবার আরো বড় ভয়ংকর সময় — সেই ক্ষমতা খাটানোর যুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিকে বিষাক্ত করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ প্রাণনাশ করে দিয়ে আমেরিকান জাতিগোষ্ঠী বিশ্বকে কব্জা করেছে আপন কৌশলে। অথচ তার দুইশ বছর আগেও ব্রিটিশ সূর্য ডুবতো না কোথাও। এমন আরো অজস্র চোখ দিয়ে দেখা যাবে “সময়”গুলো। আরেকটু উপরে উঠি? যখন সভ্যতাগুলো হারিয়ে গেলো। ফারাওদের মিশর, মেগাস্থিনিস, ব্যাবিলন, ইনকা, মায়া, পাল সাম্রাজ্য, সেনদের রাজত্ব, অটোমান এম্পায়ার -অমন শত শত সভ্যতা পাওয়া যাবে হয়ত যদি হিসেব করি এই সৃষ্টির শুরু থেকে। কিন্তু তাদের অমন হিসেব করে আমাদের লাভ নেই। সভ্যতা টেকে কয়েকশত বছর। আমরা বাঁচি খুব বেশি হলে অর্ধশত বছর।

Read more…

তোমার জন্য লেখা [কবিতা]

জুন 22, 2011

লিখেছেনঃ শাহ মোহাম্মদ ফাহিম

সময়টা বড়ই অস্থির
এক পা আগালে দুই পা পিছাতে হয়,
নিত্য ব্যস্ততা ও কোলাহলের মধ্যেও
সব কিছু কেমন যেন নিথর নিস্তব্ধ,
পাড়ার কুকুরগুলোও কয়েকদিন ধরে একটু বেশিই নিশ্চুপ
ফরমালিন মেশানো মাছের মত
মানুষের মুখের হাসিও কেমন যেন অসাঢ়,
শহুরে যান্ত্রিক জীবনের আড়ালে ভূতুড়ে নীরবতা
যেন কুয়াশার চাদরে জড়ানো শীতের বিবর্ণ সকাল।

.
তুমি নেই বলেই হয়ত সব কিছু এমন স্থির
গুমোট মেঘের আড়াল আকাশের নীল,
টংয়ের চা,
তিন তলা,
মিতালী হোটেল,
আকাশের খিচুড়ী,
বিকেলের ক্রিকেট,
রাতভর আড্ডা,
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস,
আগামী প্রজন্মকে গড়ার অঙ্গীকার,
সব কিছুতেই যেন জারি করা সামরিক হুলিয়া। Read more…

ভাই আমার…

ফেব্রুয়ারি 18, 2014

লিখেছেন: জিম তানভীর
allah_is_my_everything

আমার খুব ইচ্ছা করে, তোমাকে কিছু কথা বলি। কথাগুলো মনে হয় তোমার ভাল নাও লাগতে পারে, তবু বলি। কিছু কথা আছে বলতে যেমন সাহস লাগে, শুনতে এবং মানতে তার থেকে বেশি সাহস লাগে। কথাগুলো তেতোঁ এবং অপছন্দনীয়ও হতে পারে, কিন্তু তবু বলি, একটু শোন।

ভাই, তুমি আসলে কিসের পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছ? তোমার এই ছোট্ট জীবনটাতে তোমার সবচেয়ে আরাধ্য বিষয়টা কি ? একটু ভাল থাকতে চাও, একটু আরামে থাকতে চাও, তাই তো ? ভাল খাবে, ভাল পরবে, একটা এসি গাড়ি থাকবে, মানুষ তোমার আর তোমার সম্পদে চোখ রেখে বলবে, “আরে এরা অনেক হাই ফাই” – এরকম কিছু ? হ্যা তোমার যদি বয়সটা একটু কম হয়, সেক্ষেত্রে আশা করতে পার, মেয়েরা তোমাকে cool বলবে, তোমার একটা স্মার্ট গার্লফ্রেন্ড থাকবে, তাকে নিয়ে তুমি যাবে KFC তে খেতে ! তুমি ‘ট্যুর’ দেবে বান্দরবন, কাঁপিয়ে বেড়াবে সুন্দরবন, অথবা কক্সবাজার দাপিয়ে সেন্টমার্টিন, ফ্রেন্ডসদের নিয়ে ছবি তুলে আপলোড দেবে ফেসবুকে, আর লোকে কমেন্ট দেবে, “awesome man”। তোমার ভাল সিজি-ডিগ্রী থাকবে, লোকে তোমাকে সমীহ করে দেখবে, সমাজে তোমার মানুষের কাছে “বলার মত একটা অবস্থান” থাকবে, যে “অবস্থান” বলার প্যারামিটার সম্ভবত তোমার চাকরি, তোমার ক্যারিয়ার কিংবা তোমার হিসেব ছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্স, তাই না ? হতে পারে তুমি এমন যে তুমি চাও যে তোমার থাকবে অনেক প্রভাব প্রতিপত্তি, চায়ের দোকানে চা খেয়ে বিল না দিলে তোমাকে কেউ কিচ্ছু বলবে না, চোখ তুলে কেউ তোমার দিকে নজর দেবে না। তোমার নাম বেঁচে, ছলনা করে, কিংবা তোমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের জোরে তুমি অনেক কাজ করিয়ে নেয়ার এবং দেয়ার ক্ষমতা রাখবে, যেন তুমি কারো মুখাপেক্ষী নও!
Read more…

কী নিয়ে এসেছে ইসলাম?

জানুয়ারি 30, 2014

aaa

“কাদেসিয়া যুদ্ধের পূর্বে হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাবী বিন আমেরকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পারস্য সম্রাটের সেনাপতি রুস্তমের দরবারে দূত হিসেবে প্রেরণ করেন।

রাবী বিন আমের (রা) শিবিরে প্রবেশ করে দেখতে পান, দরবারকক্ষ মূল্যবান কার্পেটে সাজানো রয়েছে। সোনার তাজ ও মণি-মুক্তা খচিত পোশাক পরিহিত রুস্তম একটি উঁচু মঞ্চের উপরে স্বর্ণ নির্মিত সিংহাসনে বসেছিল।

রাবী (রা) ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় হাতে একটি ছোট ঢাল ও বর্শা নিয়ে সুক্ষ্ম ঘোড়ায় চড়ে দরবারে প্রবেশ করেন। একটি মূল্যবান কোল বালিশের সাথে ঘোড়াটিকে বেঁধে তিনি রুস্তুমের নিকটে যেতে উদ্যত হন। তাঁর শরীরে তখনও যুদ্ধের পোশাক ছিল। মস্তকে লৌহ শিরস্ত্রাণ ও বর্ম পরিহিত অবস্থায় অগ্রসর হলে দরবারীগণ তাঁকে যুদ্ধের পোশাক খুলে ফেলতে বললো।

রাবী বিন আমের (রা) বললেন, “আমি নিজে সাধ করে এখানে আসিনি। তোমরা আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছ। যদি আমার এ পোশাক তোমাদের অপসন্দ হয় তাহলে ফিরে যাচ্ছি।”

রুস্তুম বললেন, “তাকে আসতে দাও।”

তিনি তাঁর হাতের বর্শায় ভর করে এগিয়ে গেলেন। বর্শার খোঁচায় কার্পেট খানা স্থানে স্থানে ক্ষত বিক্ষত হলো।

রুস্তুম প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি জন্যে এসেছ?”

তিনি জবাবে বললেন,

– মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে উদ্ধার করে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর বন্দেগীতে নিয়োগ করার জন্য আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন।

– যারা দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে নিজেদের মুক্ত করে আখেরাতের সীমাহীন কল্যাণ পেতে ইচ্ছুক, তাদের সে প্রশস্ত ময়দানে পৌছানো এবং

– মানব রচিত ধর্মের অত্যাচার থেকে রেহাই দিয়ে মানুষকে ইসলাম প্রদত্ত ন্যায়-নীতির অধীনে আনয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।”

[আল বিদায়া ওয়া আন নিহায়া]


* * * * * *
[সূত্রঃ ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা : সাইয়্যেদ কুতুব ; পৃ ১৯৫]

কষ্টগুলোর জীবনকাল

জানুয়ারি 24, 2014

অনুবাদ করেছেন: সুপ্ত তাহারাত

mombati

আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুর’আনে আমাদের বলে দিয়েছেন যে, প্রত্যেকটি জিনিসের জন্যই তিনি একটি সময়কাল নির্ধারণ করে রেখেছেন। এর মাঝে আমাদের প্রতিকূলতা ও সংগ্রামও অন্তর্ভুক্ত। এদের প্রত্যেকটিরই রয়েছে সূচনা ও সমাপ্তি; আছে একটি নির্ধারিত সময়কাল। জীবনের সকল পরিস্থিতিরই একটি নির্দিষ্ট সময় পর অবসান ঘটে অথবা পরিবর্তন ঘটে।

আমার জীবনের বেশকিছু সময় রয়েছে যখন এ আয়াতটি আমাকে গভীর প্রশান্তি এনে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই আয়াতটির রয়েছে সুগভীর তাৎপর্য :

“তুমি তোমার রবের সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করো, তুমি (অবশ্যই) আমার চোখের সামনে আছো।” [সূরা আত-তূর :৪৮]

শেখার আছে অনেক কিছুই

১. আল্লাহ্‌ আপনার অবস্থার পরিবর্তন করবেন। শুধু ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর এই কষ্টের মুহূর্তটা পার করে যেতে হবে। এটা কখনও চিরস্থায়ী নয় এবং আপনার আল্লাহ এর দায়িত্বে আছেন (আপনার রবের সিদ্ধান্ত)।

২. “তুমি (অবশ্যই) আমার চোখের সামনে আছো।” এমনকি *কষ্টের সময়টা* পার করার সময়ও তাঁর চোখের সামনে। তিনি আমাদের খেয়াল রাখছেন। কী পরম শান্তি!

৩. আপনি শুধু এ কারণেই ধৈর্যধারণ করবেন না যে, (ক) আল্লাহ্‌র নির্দেশ আপনার অবস্থার নিয়ন্ত্রণ করছে বরং এ কারণেও যে, (খ) তিনি আপনাকে দেখছেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের অভিভাবক, এমনকি যখন আমাদের কষ্টের সময়, তখনো। প্রকৃত বিষয়টি হচ্ছে, আপনি তাঁর দৃষ্টি ও সুরক্ষার মধ্যে আছেন এবং আপনি ধৈর্যধারণে সক্ষম। এই পরিস্থিতিতেও আপনার ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতাটা, আপনার প্রতি আপনার রবের বিশাল এক অনুগ্রহ ও উপহার।

সারকথা: আল্লাহ তাঁর সীমাহীন জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের পরিস্থিতি দেখছেন এবং আমাদের ধৈর্যধারণের সামর্থ্যটিও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে।

[মূল লেখা : ইয়াসমিন মোগাহেদ, The Lifetime Of Hardship]

এক যুবক রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চাইলো

জানুয়ারি 23, 2014

লিখেছেন: ড. ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ি
lone

“রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাপাচারীকে চিকিতসকের দৃষ্টিতে দেখতেন যেমন রোগীকে দেখা হয়। পুলিশের মতন তিনি অপরাধীকে দেখতেন না। ইনশা আল্লাহ নিচের ঘটনাটি থেকে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবেঃ

একজন কুরাইশ যুবক একদিন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমুতি চাইলো। সাহাবীরা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন; কিন্তু রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। শান্ত সমাহিত চিত্তে তিনি যুবকটিকে তার আরো কাছে আসতে বললেন।
তারপর বললেন, “তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এটা (ব্যভিচার) মেনে নেবে?”
যুবকটি জবাব দিলো, “না।”

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “(অন্য) লোকেরাও তাদের মায়ের জন্যে এটা অনুমোদন করবে না।”
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বারবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন সে তার কন্যা, বোন ও চাচীর জন্য এটা অনুমোদন করবে কিনা? প্রতিবারই যুবক বললো, “না।”

তারপর তিনি যুবকটির হাত ধরে বললেন, “আল্লাহ তার (তরুণের) পাপ মার্জনা করুন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তাকে সহিষ্ণু করুন (তার এই কামনার বিরুদ্ধে)।” [আহমদ, তাবারানী]

এই সহৃদয় অনুভূতি সুস্পষ্ট সদিচ্ছা ও মানুষের জন্মগত সুমতির প্রতি আস্থার পরিচায়ক যা মানুষের খারাপ বৃত্তিগুলোকে বিদূরিত করতে সক্ষম। আর খারাপ প্রবৃত্তি ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং, তিনি ধৈর্যের ও যুক্তির সাথে তার সাথে আলাপ করে তার ভুল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।”

* * * * *
[সূত্রঃ ইসলামী পুনর্জাগরণ সমস্যা ও সম্ভাবনা : ড ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ি, পৃষ্ঠা ১৩৫]

গন্তব্য

জানুয়ারি 17, 2014

কবিতাটি লিখেছেন: শাহ মোহাম্মদ ফাহিম
crossed


একদিন আমরাও তারা হব
নক্ষত্রের মেলায় মুখোমুখি বসে
অনন্তে পাড়ি দেব,
শিশিরে পা ভিজিয়ে হেঁটে যাব
দ্বিধাহীন ভবিষ্যতে,
যেখানে তোমার অপেক্ষায়
পৃথিবীর সব সুন্দর।

নিষ্পাপ সুন্দরের অভিবাদনে
তোমার আরক্তিম মুখ দেখে,
আমি হব আদিম পুরুষ
তোমাকে সাজিয়ে নিব বুনোফুলে,
পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা
পাখির শিষ শুনে
শুরু হবে ভালোবাসার উৎসব।

আমাদের প্রেমের পরিণয়ে জন্ম নিবে
নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন,
সত্যের সংগ্রামে
মৃত্যুহীন মিছিলে মৃত্যু কামনায়
একদিন সেও হয়ত হবে শহীদ,
শহীদের মেলে দেয়া সিঁড়ি বেয়ে
আমরাও ঠাঁই নিব কাঙ্খিত গন্তব্যে।

দাওয়াহ প্রদানের আন্তরিকতা কেমন হওয়া উচিৎ?

জানুয়ারি 16, 2014

লিখেছেন: ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি
ramadan1

আমরা তো অনেক সময় আচার-আচরণে ‘আন্তরিক’ ও ‘কর্কশের’ তফাতও ভুলে যাই। প্রকৃত দা’ঈকে মধুর ভাষণ ও সদয় অভিব্যক্তি দিয়ে দাওয়াতী কাজ চালাতে হবে। এমন প্রমাণ আছে যে, কর্কশ আচরণের ফলে আসল বিষয় বিকৃত বা বিলীন হয়ে গেছে। এগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। এজন্যেই বলা হয়েছে, যে ভালো পথের আদেশ করে সে যেন ঠিক পথে করে।

ইমাম গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ) তার ‘আমরু বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ বইতে লিখেছেন, “যে ব্যক্তি ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং নিষেধ করে খারাপ কাজ থেকে তার ধৈর্য, সহানুভূতি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকতে হবে।” প্রসঙ্গত তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। একবার এক ব্যক্তি খলীফা আল-মামুনের দরবারে এসে কর্কশ ভাষায় পাপ-পুণ্য বিষয়ক পরামর্শ দান শুরু করলো। ফিকাহ সম্পর্কে আল-মামুনের ভালো জ্ঞান ছিলো। তিনি লোকটিকে বললেন, “ভদ্রভাবে কথা বলো। স্মরণ করো আল্লাহ তোমার চেয়েও ভালো লোককে আমার চেয়েও একজন খারাপ শাসকের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে নম্রভাবে কথা বলার আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি মুসা (আ) এবং হারুনকে (আ) যারা তোমার চেয়েও ভালো পাঠিয়েছিলেন ফিরআউনের কাছে, যে আমার চেয়েও খারাপ ছিলো এবং তাদেরকে আদেশ দিয়েছিলেন, “তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। “অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।” [২০: ৪৩-৪৪]

এভাবে মামুন তর্কে জয়ী হলেন। আল্লাহ মূসাকে (আলাইহিস সালাম) ভদ্র ভাষায় ফিরাউনের কাছে দাওয়াত পেশ করার শিক্ষা দিয়েছেন। মূসা (আ) ও ফিরাউনের মধ্যকার সংলাপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফিরাউনের ঔদ্ধত্য, নিষ্ঠুরতা ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সত্ত্বেও মূসা (আ) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দাওয়াত পেশ করেছেন। সূরা আশ-শূরায় এ বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়।

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করলেও আমরা দেখি দয়া, মায়া, নম্রতা সেখানে কঠোরতার কোন অবকাশ নেই। তাই কুরআন বলছে, “তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।” [৯:১২৮]

সাহাবীদের সাথে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কুরআন বলছে, “আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।” [৩:১৫৯]


* * * * * *
[ইসলামি পুনর্জাগরণ : সমস্যা ও সম্ভাবনা, ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি, পৃষ্ঠা ১২৯]

ঘৃণা বিদ্বেষ থেকে প্রেরণা নেয়া সংস্কারকদের কথা

জানুয়ারি 9, 2014

লেখক : মুহাম্মাদ কুতুব
tomar-jonno-lekha

বস্তুত আধুনিক জগতে কিছু ‘সংস্কারক’ দেখা দিয়েছেন। তাঁরা তার প্রেরণা চাচ্ছেন বিদ্বেষ থেকে, ভালোবাসা থেকে নয়। ঘৃণাই হচ্ছে তাদের সব প্রেরণার উৎস। তাদের মতে এ প্রেরণাই তাদের কঠিন সংগ্রামে সংযম ও সাহস যোগায়। তাদের অর্জিত এ ঘৃণা ব্যক্তি চরিত্রের হতে পারে, হতে পারে শ্রেণীবিশেষেরও। আর তা পরিচালিত হতে পারে মানবকূলের বিরুদ্ধে কিংবা তারা যে মানবস্তরে জন্ম নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে। এরূপ হিংসাত্মক প্রেরণার মানুষ হয়ত তাদের সংস্কারের মারফত কিছুটা লক্ষ্যও অর্জন করতে পারে। হয়ত তাদের শ্রেণী-বিদ্বেষের জ্বালা অন্তরের হিংস্রতা অর্জনের জন্য কষ্ট স্বীকার, উৎসাহ ও সাহস যোগাতে পারে। কিন্তু হিংসা দ্বেষ ভিত্তিক মতবাদ কখনও মানুষকে কোন কল্যাণের পথে নিতে পারে না। তারা হয়ত সমসাময়িক কোন অন্যায় ও অবিচার দূর করতে পারে, কিন্তু মানব দুর্গতির কোন স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বিদ্বেষ ও ঈর্ষাভিত্তিক জীবন-দর্শনের আজ হোক কি কাল, পতন হবেই এবং মূল ব্যাধি নিরাময় করার বদলে অন্যায় ও অবিচারকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

পক্ষান্তরে যে মতবাদ আশু পার্থিব সুবিধা কামনা করে না, করে না ঈর্ষা থেকে প্রেরণা সংগ্রহ, উপরন্তু মানুষের ভেতর ভালোবাসার বীজ ছড়ায়, ভ্রাতৃত্ব শেখায়, শেখায় সংগী মানবকূলের সেবায় জীবন উৎসর্গ করতে, সেটাই পারে শুধু মানুষের জন্য স্থায়ী সুফল দিতে, পারে তাদের প্রগতি ও উন্নতির পথ খুলে ধরতে। এরূপ মতবাদের সারকথা হলো আল্লাহ-বিশ্বাস এবং তাঁকে পাবার জন্য পছন্দনীয় পুণ্য জীবনযাপন। কিন্তু পরকালে বিশ্বাস ছাড়া এ দু’টো প্রাণহীন থাকে। এ বিশ্বাসই মানুষকে মৃত্যুর সাথে সাথে নিঃশেষিত হবার ভয় থেকে বাঁচায় এবং তাকে স্থায়ী জীবনের সন্ধান দেয়। অন্য কথায়, এর অর্থ হচ্ছে, তার কোন চেষ্টাই ব্যর্থ হবার নয় বরং ইহকালে না হলেও পরকালে তা পূর্ণ মর্যাদায় ভূষিত হবে। আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসের এটা হচ্ছে স্বাভাবিক সুফল। কিন্তু ইসলাম এখানেই থেমে থাকেনি, এগিয়ে গেছে আরো বহুদূরে সামনে।”

* * * * * *
[ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম, মুহাম্মাদ কুতুব, পৃ ১০]

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 6,259 other followers

%d bloggers like this: